বিজেপির জুপিদার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে অমিত শাহ, আবেগে ভেসে গেলেন জনসংঘের দিনের সৈনিক

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় শাসক দলের অনেকেই অভিমান করে বলেন, পুরনো কর্মীদের পার্টি মনে রাখেনি। এই রোগ সর্বভারতীয় কংগ্রেসেও বহুদিনের। কিন্তু শুক্রবার এই কলকাতাতেই ঠিক বিপরীত একটা ছবি উজ্জ্বল হল। জনসংঘের সময়ের কর্মী, পরবর্তীকালে নবগঠিত বিজেপির দীর্ঘ সময়ের সম্পাদক জুপিদার দরজায় হঠাৎ হাজির হলেন দলের নেতারা। অশীতিপর দাদার কাছে বায়না, ভবানীপুরে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাড়িতেই মধ্যাহ্নভোজ করবেন।

এ হেন মধ্যাহ্নভোজে আয়োজনের আতিশয্য কখনওই বড় বিষয় ছিল না। আন্তরিকতাই সব। এক রাতের মধ্যেই সব আয়োজন সারলেন ভবানীপুরের সৌমেন্দ্রপ্রসাদ বিশ্বাস ওরফে জুপিদার ছেলেরা। শুক্রবার সকাল থেকে হেঁসেল ঠেললেন মেয়ে। দুপুরে সেখানেই খেলেন অমিত শাহ, স্বপন দাশগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষরা।

আপ্লুত সৌমেন্দ্রপ্রসাদবাবু জানালেন, “উনি (অমিত শাহ) যে দলের পুরনো দিনের সৈনিকদের স্বীকৃতি দিচ্ছেন এটা ভেবেই ভাল লাগছে।” এদিন ভবানীপুরের বিশ্বাস বাড়িতে অমিত শাহদের জন্য মেনুতে ছিল, লুচি, ছোলার ডাল, ধোকার ডালনা, ছানার ডালনা, জিরা রাইস, আমের চাটনি, দইয়ের ছাঁচ আর পাঁচ রকম মিষ্টি।

সৌমেন্দ্রপ্রসাদবাবুরা যখন জনসংঘ করতেন বা বিজেপি করতেন তখন বাংলায় কারা গেরুয়া ঝান্ডা ধরতেন তা হয়তো হাতে গুণে বলে দেওয়া যেত। কিন্তু গত কয়েক বছরে আড়েবহরে বাংলায় বিজেপি বেড়েছে হু হু করে। এবার একুশের ভোটের আগে সরকার গঠনের জল্পনাও তৈরি হয়েছে। আদর্শের অমোঘ টানে যে মানুষগুলি দুঃসময়েও বিজেপি ছেড়ে যাননি, সুসময়ে তাঁদের বাড়িতে যদি শীর্ষ সারির নেতা মধ্যাহ্ন ভোজ সারেন তাহলে তো আবেগ বিহ্বল হওয়ারই কথা।

আনন্দে অশীতিপর বৃদ্ধের গলা ধরে আসছিল । খানিকটা জোরের সঙ্গেই বললেন, “এবার চার দশকের অপশাসন থেকে বাংলা মুক্ত হবে। বিজেপি ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। মিলিয়ে নেবেন।” সেইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো কেন্দ্র নিয়ে সৌমেন্দ্রপ্রসাদবাবুর বক্তব্য, “দিদি যে দুটো ওয়ার্ডে লিড নিয়ে জিততেন, এবার সেখানেও বিজেপি জিতবে।”

সৌমেন্দ্রপ্রসাদবাবুর স্ত্রী উত্তরবঙ্গের মানুষ। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮০ সাল থেকে তাঁর সম্পর্ক বিজেপির সঙ্গে। লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশীদের রান্না করে খাইয়েছেন একসময়ে। সেই তিনিও এদিন আবেগে ভাসলেন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.