প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ, দফায় দফায় বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ হুগলি জেলাজুড়ে

2

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: প্রার্থী নিয়ে জেলাজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ অব্যাহত। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই আঁচ বাড়ছিল। বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল জেলার বিভিন্ন জায়গায়। সোমবার তা বড় আকার নেয়। আগুন জ্বালিয়ে চলে রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ, পার্টি অফিসে তালা ঝোলানো। জেলা পার্টি অফিসে ভাঙচুরও চালায় বিজেপি কর্মিরা। মঙ্গলবার সকাল হতেই সেই ঘটনার রেশ ধরে চলছে বিক্ষোভ। চুঁচুড়া, চন্দননগর, উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, হরিপাল সর্বত্রই প্রার্থী নিয়ে কমবেশি ক্ষোভ রয়েছে কর্মীদের। নানা জায়গায় সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে।

প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন জেলা বিজেপির দুই শীর্ষনেতা সুবীর কর ও ভাস্কর ভট্টাচার্য। জেলা সভাপতির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

ত্রিবেণী মনসাতলায় বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেতাদের কুশপুতুল দাহ করে চলে রাস্তা অবরোধ। বিজেপি কর্মীদের দাবি, বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেতা দেবব্রত বিশ্বাসকে সপ্তগ্রাম বিধানসভায় কোনওভাবেই বিজেপির প্রার্থী করা যাবে না। তাহলে আগুন জ্বলবে। পোলবার সেঁইয়াতেও এদিন বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়।

পোলবা দাদপুর ব্লকের সেইয়া মোড়ে রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, অন্যান্য জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেলেও সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া দেবব্রত বিশ্বাসের নাম উঠে আসায় ক্ষুব্ধ দলের কর্মীদের একাংশ। তাঁরা বলেন, “এই প্রার্থীকে আমরা চাই না। তৃণমূলে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাই তাকে বাদ দিয়ে এলাকারই ভূমিপুত্র রাজকমল পাঠককে প্রার্থী করুক দল। এই দাবিতে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বিক্ষোভ।

সপ্তগ্রামের প্রার্থী বদলের দাবিতে সোমবার সকালে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ত্রিবেণীর বিজেপি নেতা, মৎস্যজীবী সেলের কনভেনার নিরুপম মুখার্জী। যদিও বিজেপি কর্মীরা তাঁকে বিরত করে। নিরুপম মুখার্জী জানান, দেবব্রত বিশ্বাসকে প্রার্থী করা হলে জেলা অফিসের সামনে গিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করবেন তিনি। বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে গোটা জেলাজুড়েই।

বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠিক জেলার সভাপতি শ্যামল বোস বলেন, “পুরোনো লোক সব। তাই ক্ষোভ রয়েছে কারও কারও। আমরা সবার সঙ্গে কথা বলব। সব মিটে যাবে বলেই আশা রাখছি।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.