মুম্বইতে অল্প উপসর্গযুক্ত করোনা রোগীদের চিকিৎসা ফাইভ স্টার হোটেলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রে বুধবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিলাসবহুল হোটেলগুলিতে রেখে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করছে শহরের হাসপাতালগুলি। যে রোগীদের উপসর্গ তত মারাত্মক নয়, তাঁদেরই ফোর স্টার অথবা ফাইভ স্টার হোটেলে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। শহরে যে বিপুল পরিমাণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের চিকিৎসা করার মতো যথেষ্ট সংখ্যক বেড হাসপাতালগুলিতে নেই। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে হোটেলগুলিকে চিকিৎসার কাজে লাগানো হচ্ছে।

শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলি বিভিন্ন হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করে সেখানে রোগীদের রাখার ব্যবস্থা করেছে। হোটেলগুলিকে বলা হচ্ছে স্টেপ ডাউন ফেসিলিটি। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকে বলা হয়েছে, যেসব হোটেলে কমপক্ষে ২০ টি ঘর আছে সেখানেই রোগীদের রাখা হচ্ছে। হোটেলে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানে ডাক্তাররা আছেন, নার্সরা আছেন, জরুরি পরিস্থিতির জন্য ২৪ ঘণ্টা তৈরি আছে অ্যাম্বুলেন্স।

প্রতিটি ঘরের জন্য হোটেলগুলি রোজ নিচ্ছে ৪ হাজার টাকা। রোগীর সঙ্গে কেউ থাকলে নেওয়া হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। যে কোভিড রোগীরা অ্যাসিম্পটোম্যাটিক, তাঁদেরও হোটেলে থাকতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন সংক্রমণ হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার। ভাইরাস সংক্রমণে একদিনে মৃত্যু ১০৩৮ জনের। দৈনিক মৃত্যুর এই রেকর্ড ছিল গত বছর অক্টোবরে। তারপর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা কমতে থাকে। সংক্রমণের হারও নেমে যায়। এ বছর মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ যেন বাঁধভাঙা বন্যার জলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। আরও আশঙ্কার কথা হল, ভাইরাস সক্রিয় রোগী এক লাফে ১৪ লাখে পৌঁছে গেছে। চলতি বছরের গোড়াতে ভাইরাস সক্রিয় রোগী ২ লাখে নেমে এসেছিল। সেখান থেকে ১৪ লাখের ধাক্কাটা এসেছে মাত্র দু’মাসে। উদ্বেগের কারণ হল, দৈনিক সংক্রমণ যেমন লাখ ছাড়িয়েছে, দৈনিক কোভিড অ্যাকটিভ কেসও লাখ ছাড়িয়েছে। অ্যাকটিভ কেসের হার ১০ শতাংশের বেশি, মাথায় হাত পড়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের।

দেশে এখন করোনার ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহারাষ্ট্রে ৬১ শতাংশ সংক্রমণের কারণ এই নয়া স্ট্রেন। পর পর দুবার ভাইরাসের জিনের গঠন বদলে নতুন মিউট্যান্ট স্ট্রেন আরও বেশি ছোঁয়াচে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে। তাই দেশে সংক্রমণের হার এই গতিতে বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন তো রয়েছেই, মানুষজনও করোনা বিধি মানছে না। ভোটের প্রচার চলছে, ভিড়-জমায়েতে লাগাম টানা যাচ্ছে না, গণপরিবহণে একই রকম ভিড়। রাস্তাঘাটে মাস্ক পরছেন না অনেকেই, পারস্পরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। এমন চলতে থাকলে সেদিন আর দূরে নেই যেদিন বিশ্বের সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত দেশের শিরোপা ভারতের কপালেই উঠবে।

দিল্লিতে এদিন ১৭ হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমে কোভিড বেড নেই। শ্মশানে, কবরস্থানে মৃতদেহ সৎকারের লম্বা লাইন। আক্রান্ত রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে না কোথাও। একই দশা ছত্তীসগড় ও মহারাষ্ট্রেও। প্রায় সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনা শয্যার অভাব দেখা দিয়েছে। ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সাপোর্ট নেই। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। মহারাষ্ট্রে এখন ১৫ দিনের কার্ফু চলছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এর পরেও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সম্পূর্ণ লকডাউনের কথা ভাবা যেতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More