কবির স্মৃতি ছুঁয়ে দেখতে ২২শে শ্রাবণ বিশেষ আয়োজন বিশ্বভারতীতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শান্তিনিকেতন :  বাঙালির সমস্ত অনুভূতির নির্যাস নিজের রচনায় ছড়িয়ে রেখে এক ২২শে শ্রাবণ বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। সে বিদায় তাঁর শরীরী সত্ত্বার। কারণ অনুভবে কবির উপস্থিতি চির সবুজ। মৃত্যুর পর পার হয়ে গেছে এতগুলো দশক। সময়ের দখল এসেছে পরের পর প্রজন্মের হাতে। তবু তাঁকে ছোঁয়ার, বোঝার, পাওয়ার আর্তিতে ঘাটতি পড়েনি এখনও। বরং আত্মবিস্মৃত জাতি হিসেবে বাঙালির পরিচয় যেন ধাক্কা খায় এই এক জায়গাতে এসেই।

বর্তমান প্রজন্মকে বৈশাখ চেনায় ২৫। ২২ চেনায় শ্রাবণকে। সব হারিয়েও এখানে আশ্রয় পাওয়া যায় এমন একটা বোধই হয়তো এই বাঁধনের মূলে। তাই রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনেও এ বারের ২২শে শ্রাবণ কবিকে খুঁজে নেওয়ার বিশেষ আয়োজন। সারা জীবন ধরে নিজের অকাতর সৃষ্টির স্বীকৃতিতে দেশ বিদেশ থেকে যে অজস্র সম্মান, সম্বর্ধনা, অভিজ্ঞান পত্র, শংসাপত্র পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সে সব নিয়েই আজ প্রদর্শনী শুরু হল বিশ্বভারতীতে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, অপ্রত্যাশিত ভাবে তাঁদের হাতে আসা কবির বহু স্মারক ও শংসাপত্র এই প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে। একবার জন্মদিনে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ সম্মান জানিয়েছিল তাঁকে। সেই স্মারক, কবির ৭০ বছরের জন্মদিনে কলকাতা টাউন হলে দেওয়া সম্বর্ধনার স্মারক, নোবেলের সার্টিফিকেট, নোবেল পাওয়ার পর ১৯১৩ সালে কলকাতার ওরিয়েন্টাল ক্লাবের তরফে দেওয়া সম্বর্ধনা পত্র রাখা হয়েছে এই প্রদর্শনীতে। এছাড়াও রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কবিকে দেওয়া ডিলিট সার্টিফিকেট। রয়েছে করাচিবাসীদের দেওয়া অভিজ্ঞান পত্র, বাগদাদে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ইন ইরাকের দেওয়া কৃতজ্ঞতা পত্রের মতো বিদেশের মাটিতে পাওয়া শংসাপত্রও। ত্রিপুরা রাজার উপস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথকে দেওয়া হয়েছিল ভারত ভাস্কর সম্মান। সেই অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ছবি ও কবিকে দেওয়া মানপত্র এই​ প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। কবির দেহ সৎকারের পর নিমতলা মহাশ্মশান থেকে দেওয়া সার্টিফিকেটও এই প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে।

বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনের পদাধিকারিক নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” রবীন্দ্রনাথ সারা জীবন বহু সম্মাননা, শংসাপত্র, অভিজ্ঞান পত্র পেয়েছেন। যেগুলি সম্পর্কে বহু মানুষ পড়েছেন জেনেছেন। কিন্তু সেগুলি কেমন দেখতে তা জানেন না। তাই এই প্রদর্শনীর আয়োজন।”

কবির প্রয়াণ দিবসের উপাসনা শেষে এই প্রদর্শনীর উন্মোচন করেন বিশ্বভারতী ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More