একদা মুকুল ঘনিষ্ঠদের কি গুরুত্ব বাড়ছে তৃণমূলে? শিউলিকে নতুন দায়িত্ব দিলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরোকেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা যে তৃণমূলের প্রাক্তন সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, কে না জানে! তাঁর সুবাদেই এক সময়ে হলদিয়ায় বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন শিউলি। পরে ষোলর ভোটে পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন শিউলিকে হলদিয়ায় প্রার্থী করা নিয়ে বেঁকে বসলেন, তখন মুকুলবাবুর হস্তক্ষেপেই কেশপুরে প্রার্থী হয়েছিলেন শিউলি। তা ছাড়া শিউলির গৃহপ্রবেশ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুকুল রায়ের কর্তাবাবুর মতো উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতোই।

মুকুলবাবু ‘ব্যাড বুকে’ চলে যাওয়ার পর এ হেন শিউলি-র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থা অর্জন করা এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছিল। এমনকী, এর মধ্যে এক দিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যখন তাঁর ঘরে মন্ত্রী-বিধায়কদের নিয়ে বসে রয়েছেন, তখন মোবাইলে কিছু একটা দেখছিলেন শিউলি। তা দেখে মমতা বলে ওঠেন, “কী খুটুর খুটুর করছ? এখনও কি কথা হয়?” শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে শিউলি বলেছিলেন, “না না! মোবাইলটা দেখুন দিদি, ওঁর নম্বরটাও ডিলিট করে দিয়েছি।”

 কিন্তু অ্যাদ্দিনে বুঝি শিকে ছিঁড়ল  শিউলির কপালে। বিষ্যুৎবার তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল তফসিলি জাতি সেলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদটা হয়তো বিশেষ গালভরা নয়। কিন্তু বরফ গলার ইঙ্গিতটা পরিষ্কার।

এ ব্যাপারে শিউলিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “২০০৬ সালে বীরভূমের একটি বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। তার পর থেকে তিন বছর বীরভূমের তফসিলি জাতি সেলের দায়িত্বে ছিলাম। এটা আমার কাছে নতুন কিছু নয়। দিদি দায়িত্ব দিয়েছেন। ওনার আশীর্বাদটাই বড় কথা।”

তবে শুধু শিউলি কেন? পশ্চিম মেদিনীপুর মহিলা সভানেত্রী পদে বৃহস্পতিবার উত্তরা সিংহ হাজরাকে নিয়োগ করেছেন মমতা। ডেবরার বিধায়ক শালিমা খাতুনকে সংগঠনের সহ-সভানেত্রী করা হয়েছে। এবং উত্তরা ও শালিমা এক সময়ে রাজনৈতিক ভাবে মুকুলবাবুর কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন তা জেলার নেতারা ভাল মতোই জানেন। জেলা পরিষদে উত্তরার উত্থান হয়েছিল মুকুলবাবুরই পৌরোহিত্যে।

তৃণমূল সূত্রের মতে, একদা মুকুল ঘনিষ্ঠদের ইদানীং গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়েছে। জেলায় জেলায় ছোট বড় মাঝারি অনেক নেতা রয়েছেন যাঁরা একদা মুকুলবাবুর কাছের লোক ছিলেন বা যাঁরা তাঁর জন্য সংগঠনে বা সরকারে পদ পেয়েছিলেন। যেমন দক্ষিণ ২৪ পরগণার যুব তৃণমূল সভাপতি সওকত মোল্লাকে তৃণমূলে এনেছিলেন মুকুলই। সওকত এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী এবং জেলার রাজনীতিতে ক্ষমতাশালী একজন নেতা। বাঁকুড়া জেলার জেলা পরিষদের সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তীর শক্তির উৎসও ছিলেন মুকুল রায়। সর্বোপরি সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে এখন তৃণমূলে এনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তিনিও মুকুলবাবুর কাছের লোক হয়ে উঠেছিলেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সবের মোদ্দা বার্তা একটাই। মুকুল রায় যাতে তৃণমূল ভাঙাতে না পারেন সেই সম্ভাবনা বিনাশ করতে চাইছে শাসক দল। তাঁরা জানেন, ক্ষমতার বৃত্তের মধ্যে রেখে দিলে কেউ নিশ্চিত বর্তমান ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াবেন না। তবে এতে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে তৃণমূলের অনেকের মনে। মুকুলবাবুর জমানায় তাঁদের ক্ষোভ ছিল, সেকেন্ড ম্যানের কাছের লোকেরাই ছড়ি ঘোরাচ্ছে। মুকুল রায় তৃণমূল থেকে বিদেয় হওয়ার পর তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা দেখছেন, মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠরা আগেও গুরুত্ব পেয়েছেন, এখনও আবার তাঁদের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। রাগ হবে না!

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More