একজন নেপাল, অন্যজন উত্তরপ্রদেশের, এক দশক নিখোঁজ থাকার পর দুই নাবালককে ঘরে ফেরাল দিল্লি পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপাল থেকে লুধিয়ানায় এসেছিল কৈলাস। নতুন দেশ। নতুন পরিবেশ। তখন নেহাতই নাবালক। বয়স সাত বছরও পেরোয়নি। এক শিখ দম্পতির বাড়িতে কাজ করতেন কৈলাসের মা। কৈলাসও বাইরে খাটাখাটনি করত। একদিন মালিকের মারের হাত থেকে বাঁচতে স্টেশন পালিয়ে আসে সে। তারপর দিল্লিগামী ট্রেনে চড়ে সোজা রাজধানী। পরে আর বাড়ি ফিরে যেতে পারেনি কৈলাস।

শাহরুখের গল্প কিছুটা আলাদা। আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সে। স্বেচ্ছায় নয়, ছেলেধরার হাতে পড়ে মায়ের কোলছাড়া হতে হয় তাকে। এই ঘটনার সময় তারও বয়স সাত বছর। তারপর কোনওমতে দুষ্কৃতীদের চোখে ধুলো দিয়ে পালায় সে। কিন্তু কৈলাসের মতো সেও আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।

রাজধানীর বুকে দুই ঘরছাড়া নাবালক কিন্তু ঠাঁই খুঁজে নিয়েছিল। ‘সালাম বালক ট্রাস্ট’। দিল্লির এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সৌজন্যে থাকাখাওয়ার একটা ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু আসল দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। দু’জনেই এনজিও থেকে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে সংস্থার তরফ থেকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

আর এরপরই ঘটনায় আসল মোড়। শুধু উদ্ধার নয়। ঘরছুট দুই যুবককে তাদের নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দশ বছর আগে তারা পরিবারছাড়া হয়েছিল। দু’জনের বাড়ির লোক সেই সময় এফআইআর দায়ের করলেও কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে এক দশক পর তাঁদের মুখে হাসি ফিরল। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে কৈলাস আর শাহরুখের পরিবার।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুই নাবালকের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করে সালাম বালক ট্রাস্ট। তারপর সাব-ইন্সপেক্টর রূপ কিশোর, হেড কনস্টেবল মহেশ এস বানসোড় এবং কনস্টেবল রমেশকে নিয়ে বিশেষ টিম তৈরি হয়। তাঁরা এনজিও-র আগেকার রেকর্ড, পুরোনো পুলিশ ফাইল ও ছেলেবেলায় নিখোঁজ হওয়ার সময় কৈলাশ ও শাহরুখের বয়ান ঘেঁটে দেখেন। তারপরই ধাপে ধাপে ‘মিসিং লিংক’ জুড়ে দু’জনকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠানো হয়।

শুধু তাই নয়৷ নেপালের কৈলালির বাসিন্দা কৈলাসকে বাড়ি যাওয়ার টিকিট এবং কিছু হাতখরচের টাকাও তুলে দেন কনস্টেবল রমেশ।

গোটা অপারেশনে দলের পরিশ্রম ও নিষ্ঠাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন খোদ ডিসিপি অন্তো আলফন্সে। তিনি বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ ঘরছাড়া, নিখোঁজ ছেলেমেয়েদের উদ্ধারে বদ্ধপরিকর। যত বড় চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, আমাদের বাহিনী সেটা করে দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতেও দেখাবে।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More