কোভিড যুদ্ধে ডিআরডিও-র নতুন ওষুধ আসছে সোমবারই, ১০ হাজার ডোজ পৌঁছবে দিল্লির হাসপাতালগুলিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিআরডিও-র তৈরি করা করোনার নতুন ওষুধ আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে আগামী কালই। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়েছেন, প্রথমে দিল্লির কিছু হাসপাতালে এই ওষুধের ১০ হাজার ডোজ পৌঁছে দেওয়া হবে।

দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা তথা ডিআরডিও-র তত্ত্বাবধানে ২-ডিজি ওষুধ তৈরি করেছে হায়দরাবাদের ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরি। করোনা চিকিৎসায় যে ৭০ রকম ওষুধের সলিডারিটি ট্রায়াল চলছিল তার মধ্যেই একটি ছিল ২-ডিজি। এই ওষুধের তিন পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট দেখে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। দাবি, ২-ডিজি ওষুধ হাসপাতালে ভর্তি সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের সংক্রমণ সারাতে পারবে। শ্বাসকষ্ট লাঘব করবে রোগীদের।

আরও পড়ুন: ক্যানসারের ওষুধে করোনা কমার আশা! জরুরি ভিত্তিতে ছাড় পেল ডিআরডিও-র তৈরি ২-ডিজি

এটি আসলে একধরনের পাউডার যা রোগীকে খাওয়ানো হয়। সংক্ষেপে এই ওষুধের নাম ২-ডিজি। এই ওষুধ আসলে একধরনের গ্লুকোজ মলিকিউল যার মধ্যে ২-হাইড্রক্সিল গ্রুপ প্রতিস্থাপিত হয়েছে হাইড্রজেন দিয়ে। এই রাসায়নিক গঠনের জন্য এই গ্লুকোজের গ্লাইকোলাইসিস হয় না। শুধু তাই নয়, গ্লুকোজ-৬ ফসফেট তৈরি হতেও বাধা দেয় এই ওষুধ। ক্যানসার কোষের বাড়বৃদ্ধির জন্য গ্লুকোজ দরকার। এই ওষুধ ক্যানসার কোষে গ্লুকোজ সরবরাহ করার রাস্তাটাকেই বন্ধ করে দেয়। আর গ্লুকোজ না পেলে কোষের বৃদ্ধিও হবে না। ফলে সংক্রামিত কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকবে। তবে ক্যানসার থেরাপিতে এই ওষুধের কার্যকারিতা এখনও খুব একটা প্রমাণিত হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২-ডিজি ওষুধের এই বিশেষ গুণ কাজে এসেছে কোভিড সংক্রমণের চিকিৎসায়। ভাইরাস আক্রান্ত কোষগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে নষ্ট করে দিতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে এই ওষুধ। সংক্রামিত কোষ যদি পুষ্টি না পেয়ে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে ভাইরাল স্ট্রেনও কোষের ভেতরেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রতিলিপি তৈরি করে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। শরীরের ভেতর ভাইরাসের বিভাজন বন্ধ হবে।

আরও পড়ুন: ডিআরডিও-র ‘২-ডিজি’ কি করোনা কমাতে পারে? ওষুধের ভাল ও খারাপ দু’দিকই বললেন বিশেষজ্ঞরা

রেড্ডি’সের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রথম দুই পর্বে ৪০ জন কোভিড রোগীর উপরে এই থেরাপি হয়েছিল। তাতে সাফল্য মিলেছে বলে দাবি। দ্বিতীয় পর্বে এই ওষুধের ডোজ ঠিক করা হয়েছে দিনে ৯০মিলিগ্রাম/ কেজি। তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল চলছিল এতদিন। সেই রিপোর্ট দেখেই এই ওষুধে ছাড় দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলের রেগুলেটরি কমিটি।

তবে দেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিনতর হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ধুঁকছে স্বাস্থ্য পরিষেবা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন আতঙ্ক নিয়ে হাজির হয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। এমন পরিস্থিতিতে কি কোনও কোভিড চিকিৎসায় কোনও মিরাকেল ঘটাতে পারবে ডিআরডিও-র এই ওষুধ, সেদিকেই এখন চোখ সকলের।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More