১৩৭ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ল স্বাস্থ্য খাতে, আত্মনির্ভর ভারতের ভিত মজবুত করার অঙ্গীকার বাজেটে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২১ সালের বাজেটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ একলাফে ১৩৭ শতাংশ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন সকলে।

একইসঙ্গে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, স্বাস্থ্যসুরক্ষার সবরকমের স্তর মিলিয়ে পাঁচ বছরের বিশেষ এক পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত কোভিড টিকাকরণের কথা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হলেও, এর আওতায় রয়েছে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা, জল সরবরাহ, আবর্জনা ম্যানেজমেন্ট, বায়ুদূষণ, মানুষের পুষ্টির মতো জরুরি বিষয়গুলিও। তবে এদিন নির্মলা জানান, জিডিপির মোট ১৩ শতাংশ খরচ করা হবে কোভিড যুদ্ধেই।

সীতারমন এদিন বলেন, “এবছর কোভিড টিকাককরণের খাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হল।… আরও দরকার হলে আরও বাড়ানো হবে এই ফান্ড। ফলে এই বছর স্বাস্থ্যখাতের মোট বাজেট হল ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থনেতিক বছরে অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। মোট ১৩৭ শতাংশ বাড়ল বাজেট-বরাদ্দ।

পাশাপাশি নির্মলা সীতারমণ আরও বলেন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বাজেট এতটা বাড়ানোই শুধু নয়, সরকারের ঘরে ফান্ড যত বাড়বে, সরকারের তরফেও বাজেট আরও বেশি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফোকাস করা হয়েছে এই বাজেটে। এতে যেমন অসুখবিসুখ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তেমনই অসুখ হলে তার চিকিৎসার দিকটিতেও নজর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশবাসীর সামগ্রিক সুস্থতাও সরকারের ভাবনার বিষয়।

নির্মলা সীতারমণ বলেন, আত্মনির্ভর ভারতবর্ষের ছ’টি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হল, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা। বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধী টিকার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে বলেন, এ দেশে তৈরি হওয়া নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন এখন কেবলমাত্র পাঁচটি রাজ্যে পাওয়া য়ায়, কিন্তু এ বছর থেকেই এটা সারা রাজ্যে মিলবে। এর ফলে প্রতি বছর ৫০ হাজারেরও বেশি বাচ্চার অকালমৃত্যু আটকানো যাবে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আত্মনির্ভর স্বাস্থ্য ভারত যোজনার কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। জানান, আগামী ছ’‌ বছরে এই প্রকল্পে খরচ করা হবে ৬৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে সবরকম স্তরেই স্বাস্থ্য পরিষেবার মানের উন্নয়ন করা হবে, বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আমূল উন্নয়ন ঘটানো হবে। নতুন ধরনের রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য তৈরি হবে গবেষণা কেন্দ্র। দেশের সব জেলায় পরীক্ষাগার তৈরি করা হবে। ১৭ হাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১১ হাজার শহরকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে বলেও জানান নির্মলা। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের হাতই আরও মজবুত করবে এই নতুন প্রকল্প।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More