করোনায় মৃত ১৫ দিনের মেয়ে, উদ্বিগ্ন গুজরাটের চিকিৎসকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইদানিং গর্ভবতী মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হচ্ছে করোনা। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ডাক্তাররা স্বীকারও করছেন সম্প্রতি। এতদিন জানা যাচ্ছিল, প্রাপ্তবয়স্করাই কেবল করোনার শিকার হতে পারেন। গুজরাটে এবার সংক্রমিত হয়ে মারা গেল ১৫ দিনের এক শিশুকন্যা। ঘটনার ভয়াবহতায় চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গুজরাটের সুরাট শহরের একটি হাসপাতালে প্রসবের সময় এক মহিলার করোনা ধরা পড়ে। ১ এপ্রিল তাঁর কন্যার জন্ম হলে জানা যায়, শিশুটির মধ্যেও করোনা ভাইরাসের লক্ষণ রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়। ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা হয়েছিল। সেই থেকে বৃহস্পতিবার অবধি টানা ১৫ দিনের জীবনযুদ্ধেও প্রাণ ফেরানো গেল না শিশুটির। গতকাল রাতে তার শেষ নিশ্বাস পড়ে।

এমন মর্মান্তিক ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টার কসুর করেননি কেউ। জানা যায়, সুরাটের প্রাক্তন মেয়র জগদীশ প্যাটেল নিজস্ব রক্তের প্লাজমা দিয়ে শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছিলেন। তাও শেষ রক্ষা হল না।

এই মুহূর্তে গুজরাটে নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮,১৫২। মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৭৫,৭৬৮। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫,০৭৬ জনের। যদিও, গুজরাট হাইকোর্ট এদিন রাজ্য সরকারকে তলব করে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য। প্রধান বিচারপতি বিক্রম নাথ অসন্তুষ্ট হয়ে জানান, একেকসময় একেক পরিসংখ্যান প্রকাশে সবক্ষেত্রেই বিপত্তি ঘটছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত বিছানা, ওষুধ এবং ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করতে রোগীর সঠিক সংখ্যা জানা জরুরি। রাজ্য এবিষয়ে সচেতন হোক।

হাইকোর্ট এদিন করোনার ইনজেকশন রেমেডিসিভিরের আকাল নিয়েও প্রশ্ন তোলে। ডাক্তাররা কি কথায় কথায় সব রোগীদের রেমেডিসিভির প্রেসক্রাইব করে দিচ্ছেন? নাহলে এতো ঘাটতি কেন হচ্ছে? সরাসরি তোপ বিচারপতির বিক্রম নাথের। তিনি আরও জানান, করোনা আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে রেমেডিসিভিরের জোগান মিলছে না। সেই ব্যবস্থা আগে করা হোক, নাহলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More