নম্বরহীন বাইকে চেপে অমৃতসরে গ্রেনেড হামলা, সিসিটিভি ফুটেজে উঠল দুই সন্দেহভাজনের ছবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখে কাপড় বেঁধে বাইকে সওয়ার দুই আরোহী। রাজাসংসী গ্রামের নিরঙ্কারি ভবনের সামনে এই আরোহীদের ছবিই ধরা পড়েছে রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরায়। অমৃতসর গ্রেনেড হামলায় এই দু’জনকে সন্দেহের তালিকাতেই রাখছে পুলিশ। খোঁজ শুরু হয়েছে আরোহীদের।

রবিবার নিরঙ্কারি ভবনে প্রার্থনার জন্য জড়ো হয়েছিলেন নিরঙ্কারি সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০ জন সদস্য। বেলা ১২টা নাগাদ মোটরবাইকে এসে তাঁদের দিকে গ্রেনেড ছোড়ে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৩ জন। আহত ২০।  প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এই হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরাই। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে পুষ্ট খলিস্তানি বা কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠনের হাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ।

হামলাকারীদের সন্ধান দিতে পারলে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্য দেওয়ার জন্য চালু হয়েছে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর ১৮১। মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। হামলাকারীদের গোপন ঘাঁটির খোঁজে জোরকদমে শুরু হয়েছে তল্লাশি।

ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠান চলার সময়েই মোটরবাইকে চেপে দুই আরোহী এসে পৌঁছয় নিরঙ্কারি ভবনের সামনে। তাদের মুখ ঢাকা ছিল। এরাই গ্রেনেড ছোড়ে ভবনের ভিতরে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই আরোহীদের মধ্যে একজনের পরনে ছিল জিন্স-শার্ট, অন্যজন পরেছিল কুর্তা-পায়জামা। পুলিশ আধিকারিক সুরিন্দর পল সিংহ জানিয়েছেন, যে বাইকে চেপে তারা এসেছিল তাতে কোনও নম্বরপ্লেট ছিল না। বাইক থেকে নেমে নিরাপত্তারক্ষীদের দিকে বন্দুক তাক করে একজন, অন্যজন ভিতরে ঢুকে গ্রেনেড ছোঁড়ে। চিৎকার-চেঁচামেচির মাঝেই বাইক ছুটিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় তারা।

জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবর পেয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য জুড়ে সতর্কতা জারি করেছিল পঞ্জাব সরকার। জইশ ই মহম্মদের ছয় বা সাত জন জঙ্গি পঞ্জাবে ঢুকেছে এবং তারা ফিরোজপুরে রয়েছে বলে বৃহস্পতিবারই সতর্ক করেছিলেন গোয়েন্দারা। এই জঙ্গিরা দিল্লিতে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, জম্মু- কাশ্মীরের পাশাপাশি পঞ্জাবেও ফের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে  আইএসআই। সম্প্রতি জম্মু সীমান্ত থেকে প্রচুর মাদক ও অস্ত্র আটক  হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই অস্ত্র  পঞ্জাবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল অনুপ্রবেশকারীরা। বিস্ফোরণের পরেই রাজ্যের বাকি নিরঙ্কারি ভবনগুলির পাশাপাশি হরিয়ানা ও দিল্লির ধর্মস্থানগুলিতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More