১৯ বছরের মেয়ের কলমের জোরে জন্ম নিয়েছিল ভয়ংকর দানব! আজও ভোলেনি পৃথিবী

শাশ্বতী সান্যাল

সেটা ১৮১৬ সাল। সুইজারল্যান্ডের প্রকৃতি ভারি খামখেয়ালি হয়ে উঠেছে সেবছর। লেক জেনিভায় বেড়াতে এসে প্রায় ঘরেই আটকে পড়েছেন চার পর্যটক, তিন পুরুষ আর বছর ১৮র এক নারী। এত খারাপ পরিবেশে বাইরে বেরোনো প্রায় অসম্ভব, তাই চারজনের দিন কাটছে ঘরে বসে আড্ডা দিয়ে আর গল্পের বই পড়ে। ঝড়জলের দিনে, মোমবাতির কাঁপা কাঁপা আলোয় সবচেয়ে বেশি জমে ভূতের গল্প। বই খুলে সেই ভূতের গল্প পড়তে পড়তেই আচমকা একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন চারজনের একজন।

আপাত নিরীহ আর মজার হলেও বেশ আকর্ষণীয় সেই চ্যালেঞ্জ। ঠিক হল আড্ডায় হাজির চারজনই নিজের ইচ্ছে মতো একটা করে ভূতের গল্প লিখবেন, তারপর হবে ভোটাভুটি। চারটি গল্পের মধ্যে সেরা গল্পটির লেখক নির্বাচিত হবেন। এই আশ্চর্য গল্পচক্র থেকেই সেদিন জন্ম হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ দানবের। তার নাম ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন।

১৮১৪ সাল নাগাদ শেলি দম্পতি বেড়াতে গিয়েছিলেন রাইন নদী তীরবর্তী অঞ্চলে, গার্নশেইমে৷ সেখান থেকে এগারো মাইল দূরেই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ক্যাসেল। দুশো বছর আগে ওই দুর্গে না কি থাকতেন এক রহস্যময় অ্যালকেমিস্ট। লোকমুখে শোনা যায় তিনি মৃতদেহে প্রাণসঞ্চার করার নানারকম গোপন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন ওই দুর্গে। তারপর তার কি হয়েছিল আর কেউ জানেনা। বছর দুই পরে জেনেভায় গিয়েও মেরি শুনলেন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ক্যাসেল সম্পর্কে গা ছমছমে কিছু গল্প।

জেনেভায় তখন গ্যালভানাইজেশন প্রক্রিয়া নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বিজ্ঞানীমহলে। কাগজপত্রে লেখালিখিও চলছে। সেসব প্রতিবেদনের দিকেও নিশ্চয়ই চোখ গিয়েছিল মেরি ওলস্টোনক্রাফটের। নাহলে মাঝরাতে ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইনকে নিয়ে এক ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখবেন কেন তিনি! তাঁর লেখা গল্পটা আসলে রাতে দেখা সেই স্বপ্নেরই কথ্যরূপ।

দানবের প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া যাক কে ছিলেন এই মেরি গডউইন? নারীবাদী লেখিকা মেরি ওলস্টোনক্রাফট আর আঠেরো দশকের বিখ্যাত লেখক, দার্শনিক উইলিয়াম গডউইনের ছোট মেয়ে মেরি। জন্মের মাত্র এক মাসের মধ্যেই মা’কে হারান মেরি। এমনিতেই অগোছালো আত্মকেন্দ্রিক মানুষ ছিলেন দার্শনিক গডউইন, স্ত্রীর মৃত্যু তাঁকে আরও বিভ্রান্ত করে তোলে। এই অবস্থায় মা হারা মেয়ের দেখভাল করার জন্যই সম্ভবত আবার বিয়ে করেন তিনি। ছোট্ট মেরির বয়স তখন চার।

সংসারে সৎ মা আসায় প্রথম প্রথম কিছুটা যত্ন-আত্তি পেলেও সে সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি মেরির জীবনে৷ নিজের ছেলেমেয়ে জন্মানোর পর থেকেই স্বামীর আগের পক্ষের মেয়েকে দূরছাই করা শুরু করেন তিনি। এমনকি সৎ-মায়ের ইচ্ছেয় স্কুলের প্রথাগত পড়াশুনো থেকেও বঞ্চিত হন ছোট্ট মেরি।

স্কুলে যেতে না পারলেও বাড়িতে গভর্নেসের কাছে পড়াশোনা করতে শুরু করেন মেরি। দিনের বেশিরভাগ সময়টাই তাঁর কেটে যেত বাবা-মা’র তৈরি বিরাট লাইব্রেরিতে। সেই বইয়ের নেশা না কি এমন ছিল, একা একা মা’র কবরের পাশে বসেও বই পড়তেন মেরি। আর ফাঁক পেলে নিজের মনের কথা টুকটাক লিখে রাখতেন জার্নালে। পড়াশোনায় মেয়ের আগ্রহ দেখে বাবাও মেরিকে প্রায়ই নিয়ে যেতেন শিক্ষামূলক ভ্রমণে কিংবা ডেকে নিতেন নিজের কাজের ঘরে। সেখানে আসা জ্ঞানীগুণী মানুষদের আলোচনা মন দিয়ে শুনতেন মেরি। বাবার এই কাজের ঘরেই একদিন তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়ে যায় যুবক কবি পার্সি বিশি শেলির।

পরিবেশের আলো, জল, হাওয়ার মতো জ্ঞানও মেরির কাছে এসেছিল খুব সহজ স্বাভাবিক পথে। প্রথাগত শিক্ষার ধাঁচা থেকে দূরে স্বতঃস্ফূর্ত এই বিদ্যালাভের মধ্যে দিয়ে আরও সপ্রতিভ, বিদূষী হয়ে উঠেছিলেন সুন্দরী মেরি। টুকটাক লেখায় হাত পাকাতেও শুরু করেন। বায়রন, কোলরিজের মতো বিখ্যাত কবিদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়ে গেছিল আগেই৷ কিন্তু শেলির সঙ্গে পরিচয়ের পর যেন নতুন জন্ম হয় মেরির৷ একচোখ স্বপ্ন নিয়ে ২২ বছরের বিবাহিত যুবক শেলির প্রেমে পড়ে ১৭র সদ্যযুবতী মেরি।

প্রথম স্ত্রী হ্যারিয়েটের সঙ্গে তখনও বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি শেলির। এক সন্তানের বাবা বিবাহিত শেলির সঙ্গে মেয়ের মন দেওয়া-নেওয়া মেনে নিতে পারলেন না গডউইন। তাঁর শাসনের ফল হল উলটো। বাড়ির কাউকে না জানিয়ে শেলির হাত ধরে পথে নামলেন মেরি।

সারা ইউরোপ ঘুরে প্রেমিক-যুগল এসে পৌঁছলেন ফ্রান্সে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফ্রান্সের সেই চেহারা, আগুনে পোড়া ঘরবাড়ি, মৃত পশুদের দেহ, মানুষের কষ্ট-যন্ত্রণার ছবি মেরির স্পর্শকাতর মনকে কাঁদিয়ে দিয়েছিল। আধুনিকতার সেই অভিশাপের ছবি বহুদিন স্মৃতির ভিতরে বয়ে বেরিয়েছেন তিনি। বলা যায় না, হয়তো এই ধ্বংস আর দুর্দশার ছবিগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল আগামীর দানবের বীজ।

ছ’মাস পর প্রায় কপর্দকশূন্য অবস্থায় যখন দেশে ফিরে আসেন প্রেমিক-যুগল, মেরি তখন অন্তঃসত্ত্বা। বিবাহপূর্বের সেই সন্তানকে যদিও বাঁচাতে পারেননি মেরি। জন্মের পরপরই মারা যায় প্রিম্যাচিওর শিশুটি। মা’কে হারিয়েছিলেন ছেলেবেলাতেই, কুমারী গর্ভে জন্মানো প্রথম সন্তানের মৃত্যু আরও বড় আঘাত হয়ে দেখা দিল জীবনে। গভীর মানসিক অবসাদে ডুবে যান মেরি।

পরের বছর দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর শরীর সারাতে সুইজারল্যান্ডে এসে কবি বায়রনের অতিথি হলেন দুজনে। স্যাতসেতে বৃষ্টির দিনে তাঁদের সময় কাটতো আগুনের সামনে গোল হয়ে বসে গল্প করে আর জার্মান ভূতের গপ্প পড়ে। তারপরই আসে ভূতের গল্প লেখার সেই অভিনব প্রস্তাব।

বাকিরা চিরাচরিত ভ্যাম্পায়ার-ড্রাকুলা ভিত্তিক গল্প লিখলেও মেরির গল্পের কেন্দ্রিয় চরিত্র হয়ে দেখা দিলেন তরুণ সুইস বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন। মানবশরীর নিয়ে গবেষণাই যাঁর কাজ। সেই গবেষণাগারেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বেশ কিছু প্রাণীর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মিলিয়ে তিনি জন্ম দিলেন এক অতিকায় প্রাণীর। তারপর ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে প্রাণসঞ্চার করলেন সেই প্রাণীর দেহে। কিন্তু নিজের হাতে তৈরি সেই দানবকে নিজেই সহ্য করতে পারেননি ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন। সদ্যোজাত সেই দানবকে আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে তাড়িয়ে দেন তিনি। একা একা সেই দানব বিরাট পৃথিবীতে কোথাও আশ্রয় না পেয়ে বাধ্য হয়ে গা ঢাকা দেয় জঙ্গলে।

ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দুর্ব্যবহার ভুলতে পারেনি দানব। একের পর এক মানুষ খুন করে সে নিজের অকৃতার্থ জীবনের শোক ভুলতে চাইত। পারত না। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের ভাই, স্ত্রী, পরিবারের সকলকেই একে একে খুন করে সেই দানব। সবশেষে খুন করে নিজের স্রষ্টা, নিজের বাবা বৈজ্ঞানিক ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনকে।

এই বিষময় পরিণামের জন্য দানবকে দোষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাননি লেখিকা। বরং ভালোবাসার অভাবে, স্রষ্টার অবহেলায় সৃষ্টি কীভাবে প্রতিহিংসা-পরায়ণ হয়ে ওঠে, সেটাই যেন দেখাতে চেয়েছেন এই উপন্যাসে। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে শিব গড়তে গিয়ে বাঁদর তৈরির মতো মানবশরীরের উপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে গিয়ে মানুষের হাতেই তৈরি হল সেই মানুষেরই হন্তারক। এই গল্পের নায়ক আর খলনায়ক দুইই ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন। তাঁর অবহেলাই নৃশংস করে তুলেছিল দানবকে।

কুশ্রী, ভয়াবহ সেই দানবকে জন্ম দিলেও কিন্তু তার জন্য কোনও সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারেনি বিজ্ঞান। অতিমানব গড়তে গিয়ে জন্মেছিল দানব। ভালোবাসার বদলে পেয়েছিল ঘৃণা আর অপমান। তার স্রষ্টাই ভয় পেয়ে বাড়িছাড়া করেছিল তাকে। গল্পের এক অংশে সরাসরিই ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইনের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে দানব। বলে, “আমার প্রাণ দিয়েছ, কিন্তু রূপ দিলে না কেন? কেন আমায় এত কুৎসিত করে গড়ে তুললে? আর কেন তুমি তোমার সৃষ্টিকে ভালবাসতে পারলে না?”

প্রথমে গল্প লেখার ইচ্ছে নিয়েই লেখা হয় ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন। পরে ধীরে ধীরে কলেবর বাড়িয়ে উপন্যাসের রূপ নেয় এই দানবের আখ্যান। বিজ্ঞানী ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন আর দানবের এই কাহিনিই বিশ্বসাহিত্যে লেখা প্রথম কল্পবিজ্ঞানের গল্প। ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইনের হাতে তৈরি বীভৎস এই চরিত্রটি এক নিঃসঙ্গ প্রণয়বঞ্চিত হতভাগ্য দানব। জন্মের পর থেকেই সে পরিত্যক্ত, অবহেলিত, ঘৃণার পাত্র। মহাভারতের কর্ণের মতো, বৌদ্ধ লোককথার অঙ্গুলিমালের মতো, ইতিহাসের কালাপাহাড়ের মতো মানুষের ঘেন্না আর অবজ্ঞা থেকে এভাবেই যুগে যুগে জন্ম নিয়েছে স্নেহ-মায়া, ভালোবাসা বঞ্চিত, কুশ্রী ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যেরা। মেরি গডউইনের শৈশব-কৈশোরের স্নেহহারা অন্ধকার দিনগুলির স্মৃতি, বাবার ঔদাসীন্য, সৎমার নিষ্প্রেম আচরণ সম্ভবত ১৯ বছরের এই যুবতীর মনে নিজের অজান্তেই এই ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইনের দানবের বীজ বপন করেছিল।

মেরি শেলির লেখা এই আখ্যানকে বলা হয়, আধুনিক প্রমিথিউসের গল্প৷ সত্যিই তো তাই।ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রমিথিউসের প্রতিবাদের মতো এ আখ্যানেও স্রষ্টার উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে তাঁরই সৃষ্টি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। এ যেন জোর করে পবিত্র আগুনের অধিকার ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা। বিজ্ঞানী ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন নয়, নারীবাদী মায়ের সন্তান মেরি গডউইন এই গল্পের অসহায় দানবের পক্ষেই এসে দাঁড়িয়েছেন। যে দানব তার স্রষ্টার কাছে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছিল এই নিঃসঙ্গ নিষ্প্রেম পৃথিবীতে তারই মতো আরও একজন সঙ্গী গড়ে দিতে, যার কাছে সে ভালোবাসা পাবে, সাহচর্য পাবে। ফ্র‍্যাঙ্কেনস্টাইন সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁর নির্মম উদাসীনতা আর ঘৃণার জন্যেই তাঁর তৈরি অতিমানব বদলে গেছে দানবে।

মেরি শেলির এই উপন্যাস আসলে মানুষের ঘুমন্ত বিবেকবোধকে জাগিয়ে তোলার উপাখ্যান। আধুনিক অবিবেচক বিজ্ঞানের রাশি রাশি মারণাস্ত্র আবিষ্কার আর আধুনিক রাজনীতিবিদদের হাতে তৈরি হওয়া ভয়ংকর মাসলম্যানরাও প্রায়শই বুমেরাং হয়ে স্রষ্টাকে আঘাত করে।
‘মুক্তধারা’ নাটকেও রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন, রাজা রণজিতের নির্দেশে মুক্তধারা নামের ঝর্ণার উপরে গড়ে ওঠা বিশাল লোহার বাঁধ কীভাবে ভালোর বদলে ক্ষতিই ডেকে এনেছে। সেই বীভৎস যন্ত্রটা দেখে রাজা নিজেই শিউরে উঠে বলেছিলেন: ‘ওটাকে দানবের উদ্যত মুষ্টির মতো দেখাচ্ছে। অতটা বেশি উঁচু করে তোলা ভাল হয়নি।’

‘রক্তকরবী’ নাটকের ভয়ংকর শক্তিধর রাজাও নাটকের শেষে অসহায় অনুতপ্ত কণ্ঠে বলেছিল : ‘সর্বনাশ! আমার নিজের যন্ত্র আমাকে মানছে না!’
প্রথম মহাযুদ্ধের আগে পরে ইউরোপ, আমেরিকার উদ্ধত আর নির্মম রূপ দেখে এসে লেখা এই দুটি নাটকও আসলে রূপকের ছলে মানুষের বিবেকের জাগরণ ঘটানোর নাটক।

দম্ভ, খ্যাতি আর ক্ষমতার মোহ মানুষকে আজ গভীর খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই প্রেমহীন, আত্মঘাতী, অমানবিক বিজ্ঞাননির্ভর সভ্যতার বিরুদ্ধে আজ থেকে দু’শ বছর আগে ১৯ বছরের এক সদ্য তরুণী মেরি শেলি গল্পচ্ছলে যে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিলেন তা আজও কী ভীষণ প্রাসঙ্গিক! এই গল্প যেন রূপকের ছলে মানুষের সভ্যতার চিরকালের গল্প। এই উপাখ্যান আজও সভ্যতার বিবেকশূন্য মহাশ্মশানে ঘৃণার উল্টোপিঠে বসে আমাদের নতুন করে সুন্দরের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। মেরি শেলি সেই শাশ্বত স্বপ্নের পথিকৃৎ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More