একটি বেডে দু’জন করোনা রোগী, মৃতদেহও পড়ে আছে ওয়ার্ডে! দিল্লির হাসপাতালে শোচনীয় অবস্থা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে আইসোলেটেড থাকা বা কারও সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা যে কতটা জরুরি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না মহামারীর এই দ্বিতীয় বছরে। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোভিড রোগীরাই বাধ্য হচ্ছেন হাসপাতালের একটি অপরিসর বেডে দু’জন করে থাকতে!

এমন দৃশ্যই দেখা গেছে দিল্লির একটি হাসপাতালে। গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানী এই শহরে অত্যন্ত খারাপ হচ্ছে কোভিড পরিস্থিতি। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁতে চলেছে প্রায় ২০ হাজার। বহু রোগীরই সংক্রমণের তীব্রতা বেশ বেশি। অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঠাঁই-নাই দশা হাসপাতালগুলিতে।

হাসপাতালের অন্যান্য পরিষেবাও বেহাল। লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে দেখা গেছে, একই বেডে গাদাগাদি করে একাধিক করোনা রোগী শুয়ে। তাঁদের সকলের হাসপাতালের পোশাকও নেই। কেউ অফিসের পোশাক পরে, কেউ বা ঘরেরই পোশাক পরে ভর্তি রয়েছেন। ওই অবস্থাতেই মুখে লাগানো রয়েছে অক্সিজেনের পাইপ, হাতে স্যালাইনের নল। হাসপাতালের বাইরে যেখানে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স ঢুকছে, পাল্লা দিয়ে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরপর বেরোচ্ছে শববাহী গাড়ি। অনেককেই দেখা যাচ্ছে বাসে-অটোয় করে এসে ভর্তি হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, এটি ভারতের সবচেয়ে বড় কোভিড চিকিৎসার হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত। এখানে বেডের সংখ্যা ১,৫০০। সেখানেই ধরা পড়েছে এই ভয়ানক দৃশ্য। বাকি হাসপাতালগুলির অবস্থাও যে কমবেশি এমনটাই হবে, তা বলাই বাহুল্য।

লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর সুরেশে পরিকাঠামে আছে হাসপাতালে, সেই তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি হয়ে রয়েছেন হাসপাতালে। যেখানে আইসিইউ বেড আছে ৫৪টি, সেখানে রোগী রয়েছেন ৩০০ জন। প্রায় ৬ গুণ বেশি চাপ পড়ছে হাসপাতালের উপর। সকলকে বেড দেওয়া, পোশাক দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ তো গেল হাসপাতালের পরিকাঠামোগত বেহাল দশা, কিন্তু রোগীদের অবস্থাও শোচনীয়। অপরিচিত সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গেই একসঙ্গে থাকতে হচ্ছে এক বিছানায়। অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে, দেহ নিয়ে যাওয়ার লোক নেই। ওয়ার্ড থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শেষকৃত্যের জন্য। হাসপাতালগুলির মতো শ্মশান ও কবরস্থানগুলিরও বেহাল দশা।

সর্বোপরি কোথাও করোনাবিধি মানার কোনও ব্যাপারই নেই বলে অভিযোগ রোগীদের। ফলে পরিস্থিতি এর থেকেও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। জানা গেছে, দিল্লিতে এখন যত করোনা পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি পজিটিভ।

এই অবস্থায় সপ্তাহান্তের কার্ফুর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। আগামী কাল, ১৭ এপ্রিল, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কার্ফু জারি থাকবে। কেবল অতি জরুরি পরিষেবা ছাড়া ঘর থেকে বেরোনো যাবে না বা কিছু খুলে রাখা যাবে না।

যদিও উইকেন্ড কার্ফু ঘোষণার পাশাপাশি গতকালই কেজরীবাল আশ্বাস দিয়েছিলেন, দিল্লিতে যথেষ্ট পরিমাণে বেড রয়েছে করোনা রোগীদের জন্য, কিন্তু তার পরেই একটি বেডে দু’টি করে রোগীর থাকার ঘটনা সামনে এসেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More