২০২০ সাল গিয়েছে, কোভিড এখনও আছে, নতুন বছরে সতর্কবার্তা কেজরিওয়ালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ২০২০ সালে করোনা অতিমহামারীর সময় যেভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের সেবা করেছেন, সেকথা উল্লেখ করেছেন আপ নেতা। সেই সঙ্গে দিল্লিবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ২০২১ সালেও করোনা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

কেজরিওয়াল বলেছেন, “২০২০ সাল চলে গিয়েছে। কিন্তু করোনা যায়নি।” পরে তিনি বলেন, “নতুন বছর নিয়ে এসেছে নতুন আশা। আপনারা সকলে আনন্দে থাকুন, সুস্থ থাকুন। হ্যাপি নিউ ইয়ার।” দিল্লিতে বৃহস্পতিবার ৫৭৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শহরে এই নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৬২ লক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছেন, নতুন বছরে ভ্যাকসিন এলেও করোনা সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “আগে আমি বলতাম, যতক্ষণ না ওষুধ আসছে ততক্ষণ কোনও ঢিলেমি নয়। কিন্তু এখন আমার মন্ত্র হল, ওষুধও দরকার আবার কড়া সতর্কতাও।” করোনা সংক্রমণ ক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আসছে। নতুন সংক্রমণও কমেছে দেশে। এমন পরিস্থিতিতে সব বিধিনিষেধ ভুলে গেলে চলবে না।

দিল্লিতে ৩১ ডিসেম্বর ও পয়লা জানুয়ারির রাতে জারি হয়েছে নাইট কার্ফু। দিল্লির বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ)জানিয়েছে, ব্রিটেনে করোনার যে নতুন স্ট্রেন দেখা গিয়েছে, তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নতুন বছরের জমায়েত, মেলামেশা বন্ধ না করলে বহু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সংক্রমিতদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের সকলকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তাই বর্ষবরণের এই সময় বাড়তি সতর্কতা দরকার।

দিল্লির সমস্ত রেস্তোরাঁ, বারগুলিতে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষকে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হবে না, এমন নির্দেশই পাঠানো হয়েছে। বাজার এলাকা, শপিং মল, পাঁচতারা হোটেল, পাবগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়েছে। দিল্লির পুলিশ কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব বলেছেন, রাস্তায় বের হলে কোভিড প্রোটোকল মানতে হবে। মুখে মাস্ক বাধ্যতামূলক, সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং জরুরি।

করোনার নতুন স্ট্রেনের ভয়ে আরও কয়েকটি শহরে ইতিমধ্যেই নাইট কার্ফু চালু হয়েছে। আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্নাটকের প্রতিটি শহরে রাত ১০ টা থেকে সকাল ছ’টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকবে। মহারাষ্ট্রে অবশ্য নাইট কার্ফুর মেয়াদ ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনে নাইট কার্ফু জারির পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ। রাজ্য সরকার অবশ্য নাইট কার্ফুর সম্ভাবনা উড়িয়ে প্রত্যেককে সতর্ক ও সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More