‘বড়মার স্বভাব ভাল ছিল না, শাস্তি দিতেই যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দিয়েছি’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দৃপ্ত ভঙ্গিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে চলেছেন যুবক। বয়স বছর কুড়ি। মুখচোখে কৃত অপরাধের লেশমাত্র অনুতাপ নেই। বরং শরীর জুড়ে হিংস্রতা এবং প্রতিহিংসার এক অদ্ভুত বিচ্ছুরণ। দু’চোখে ঠিকরে বেরোচ্ছে রাগ। আদালত চত্বরে তখন মেলা লোক। সাংবাদিকদের  প্রশ্নের উত্তরে যুবক বললেন, ‘‘বড়মার স্বভাব ভাল ছিল না। শাস্তি দিতেই আমি আমার বড়মার যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দিয়েছি।’’

যুবকের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে স্তম্ভিত মিডিয়া-সহ আদালতে উপস্থিত দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। চারদিকে যেন পিন পড়লেও শব্দ শোনা যায়। একই রকম দৃপ্ত ভঙ্গিতে যুবক বলে চলেছেন, ‘‘সে দিন হাড়িয়া খেয়ে গরু চড়িয়ে বাড়ি ফিরছি। দেখি বড়মা ঘরের মধ্যে উলঙ্গ হয়ে রয়েছে। তাকে বাড়ির পাশে ডেকে নিয়ে যাই। এর পর তার সঙ্গে ওই কাজ করি।’’

যুবকের নাম রতন মুন্ডা। সম্পর্কে সে নির্যাতিতারই দেওরের ছেলে। ধূপগুড়িতে আদিবাসী মহিলার গণধর্ষণের অভিযোগে রবিবারই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গণধর্ষণের পর খুনের চেষ্টা। এই অভিযোগেই ধরা হয়েছে রতনকে। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে রতনের আরও এক শাগরেদ পরিমল রায়কে। দু’জনকেই সোমবার জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়েছিল।

আদিবাসী মহিলা ফুলো মুন্ডাকে গণধর্ষণ করে নদীর ধারে ফেলে রেখে গেছিল অভিযুক্তেরা। যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে অত্যাচার চালানো হয়েছিল মধ্য তিরিশের এই বধূটির উপর। খবর পেয়ে মহিলাকে উদ্ধার করতে গিয়ে শিউড়ে উঠেছিলেন এলাকার লোকজন। তাঁরা দেখেন, নদীর ধারে রক্তাক্ত পড়ে রয়েছেন এক মহিলা। নগ্ন শরীর, আলুথালু চুল। গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তের ধারা বেরিয়ে মিশেছে চারপাশের মাটিতে। মহিলাকে ঘিরে শুকিয়ে জমাট বেঁধে রয়েছে চাপচাপ রক্ত।

আরও পড়ুন: অমৃতসরের ছায়া ক্যানিং লাইনে, ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু লাইনে বসে থাকা দুই যুবকের

প্রাথমিক ভাবে ফুলোকে ভর্তি করা হয়েছিল ধূপগুড়ি হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর বয়ান নেয় পুলিশ। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করানো হয় জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে। বয়ানে, নিজের পরিবারের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন নির্যাতিতা। জানান, একাদশীর দিন সন্ধেয় দেওরের ছেলের ডাকে বাড়ির বাইরে পা দিয়েই বুঝতে পারেন তাঁকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। মুখ চেপে ধরে রতনই তাঁকে নিয়ে যায় বাড়ির পাশের খালির জমিতে। রতনের সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন। ধর্ষণের পর তাঁকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিয়ে আসা হয় গিরান্ডি নদীর ধারের একটি ঝোপে।

গতকাল বিকেলে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান ধূপগুড়ির বিধায়ক মিতালি রায়। নির্যাতিতার বয়ান নিতে হাসপাতালো পৌঁছন জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতিও। অমিতাভবাবু জানিয়েছেন, নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করে নিরঞ্জন পাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ডি, ৩০৭ ও ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। খুব দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জমি বিবাদ নিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, জমির ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে দুই পরিবারের বিবাদ দীর্ঘদিনের। সেখান থেকেই রাগ এবং হিংসার জন্ম। একে অপরের উপর দোষারোপ ও কালি ছেটানো। নির্যাতিতার পরিবারের কথায়, জমি নিয়ে বচসার জের যে ধর্ষণের রূপ নেবে সেটা ছিল তাঁদের কল্পনারও অতীত।

লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজে

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More