দিল্লিতে আক্রান্ত ২৪ হাজার, হাসপাতালে বেড, অক্সিজেনের অভাবের কথা জানালেন কেজরিওয়াল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার বিকালে জানা গেল, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী দিল্লিতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার জন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লির হাসপাতালগুলিতে দ্রুত বেডের সংখ্যা ফুরিয়ে আসছে। অক্সিজেনের সরবরাহও কমে এসেছে। প্রাণদায়ী ওষুধ রেমডেসিভিরও যথেষ্ট সংখ্যায় নেই।

রাজধানীতে এখন পজিটিভিটি রেট ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ যাঁদের করোনা টেস্ট করা হয়েছে, তাঁদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন পজিটিভ হয়েছেন। কেজরিওয়াল বলেন, “পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। করোনা রোগীর সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে। কয়েকদিন আগেও মনে হচ্ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু এখন সব কিছুরই অভাব দেখা দিয়েছে। করোনা যে হারে বাড়ছে, কোথায় গিয়ে থামবে বোঝা যাচ্ছে না।”

পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে কোনও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোরই সীমাবদ্ধতা আছে। সরকার হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। আশা করি, আগামী দু’-চারদিনের মধ্যে বেডের সংখ্যা ৬ হাজার বাড়াতে পারব।”

চলতি মাসে দেশে ২০ লক্ষের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গিয়েছেন ১৩৪১ জন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে দেশে করোনায় মারা গিয়েছেন মোট ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৪৯ জন।

অতিমহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্মশানের ওপরে বিরাট চাপ পড়েছে। মৃতদের প্রিয়জনেরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শ্মশানের সামনে। বারাণসী ও ভোপালের মতো শহরে শ্মশানে চুল্লির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

বারাণসীর বাসিন্দা রবীন্দ্র গিরি জানিয়েছেন, শুক্রবার এক প্রিয়জনকে দাহ করার জন্য তাঁকে হরিশচন্দ্র ঘাটে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর কথায়, “শ্মশানে এমন দৃশ্য আর কখনও দেখিনি। আমরা দাহ করার জন্য কাঠ পর্যন্ত পাচ্ছিলাম না। আমাদের চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।”

উত্তরপ্রদেশে যে শহরগুলি অতিমহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার অন্যতম হল বারাণসী। সেখানে মণিকর্নিকা ঘাট শ্মশানে রোজ আসছে বিপুল সংখ্যক মৃতদেহ। প্রশাসন জানিয়েছে, হরিশচন্দ্র ঘাট শ্মশানে শুধুমাত্র কোভিড রোগীদের দাহ করা হবে।

গত কয়েকদিন ধরে কুম্ভমেলা উপলক্ষে হাজার হাজার পুণ্যার্থী জড়ো হয়েছেন হরিদ্বারে। ইতিমধ্যে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন এক সাধু। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবেদন জানিয়েছেন, “করোনা সংকটের মধ্যে এবার কুম্ভমেলা হোক প্রতীকি।”

টুইট করে মোদী জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে ফোনে জুনা আখড়ার স্বামী অবদেশেনন্দ গিরির কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইতিমধ্যে দু’টি শাহি স্নান হয়ে গিয়েছে। এবার থেকে কুম্ভমেলা হোক প্রতীকি। তাতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুবিধা হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More