স্টক শেষ, মহারাষ্ট্রে ২৬ টি ভ্যাকসিন সেন্টার বন্ধ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী বলেছিলেন, রাজ্যে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন রয়েছে, তাতে আর তিনদিন চলতে পারে। বৃহস্পতিবার জানা গেল, প্রতিষেধকের অভাবে বন্ধই হয়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের ২৬ টি টিকাকরণ কেন্দ্র। তার মধ্যে ২৩ টি অবস্থিত নভি মুম্বইতে। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান শরদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের সঙ্গে কথা বলেছেন।

রাজেশ তোপী এদিন বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় সাতারা, সাঙ্গলি এবং পানভেল অঞ্চলে ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের রাজ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। মহারাষ্ট্রে প্রতি সপ্তাহে ৪০ লক্ষ ডোজ চাই। প্রতি মাসে চাই ১.৬ কোটি ভ্যাকসিন। রাজেশ তোপীর প্রশ্ন, “মহারাষ্ট্রের লোকসংখ্যা গুজরাতের দ্বিগুণ। গুজরাত এক কোটি ডোজ পেয়েছে, আমরাও এক কোটি ডোজ পেয়েছি।”

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেছেন, দেশে ভ্যাকসিনের অভাব নেই। কয়েকটি রাজ্য নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করার জন্য ভ্যাকসিনের সংকটের কথা বলছে। মহারাষ্ট্র সরকারের কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে। তাদের গড়িমসির জন্য সারা দেশে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজেশ তোপী বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে লড়াই হওয়া উচিত নয়। আমরা এই ইস্যুতে রাজনীতি করতে চাই না। কাউকে দোষারোপ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে সোমবার থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ওই হাসপাতালগুলিতে প্রতিষেধকের স্টক শেষ হয়ে গিয়েছে। ফের কবে ভ্যাকসিন আসবে তাদের জানা নেই। হাসপাতালগুলির বাইরে নোটিশ টাঙিয়ে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন আউট অব স্টক। যাঁরা ওই হাসপাতালগুলিতে ভ্যাকসিন নিতে এসেছিলেন, তাঁদের বলা হয়েছে, আগে খবর নিয়ে জানবেন ভ্যাকসিন এসেছে কিনা, তারপরে আসবেন।

গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরমে এলওয়াইএফ হাসপাতালের ডায়রেক্টর অলোক গুপ্ত বলেন, “সোমবার থেকে আমাদের ভ্যাকসিন নেই। তাই আমরা টিকা দেওয়া বন্ধ করেছি। ভ্যাকসিনের পরবর্তী স্টক কবে আসবে জানা নেই।” দীপক গুপ্ত নামে ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী অনেক চেষ্টা করেও ভ্যাকসিন নিতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি তিন-চারদিন ধরে বিভিন্ন ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে গিয়েছি। কোথাও ভ্যাকসিন পাইনি।

বৃহস্পতিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দৈনিক সংক্রমণ শুধু নয়, করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও ঘুম কেড়ে নিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। অ্যাকটিভ কেসের হার সাত শতাংশ, আক্রান্ত ৯ লাখের বেশি। এত বিপুল সংক্রমণ গত বছরও হয়নি দেশে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More