শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০, নিহতদের মধ্যে ৬ ভারতীয়, ধৃত ২৪

দ্য ওয়াল ব্যুরো  : রবিবার শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরেই জানা গিয়েছিল, নিহতদের তালিকায় আছেন তিন ভারতীয়। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণে নিহত ভারতীয়দের নাম লক্ষ্মী, নারায়ণ চন্দ্রশেখর ও রমেশ। কিন্তু সোমবার সকালে ভারতীয় হাই কমিশন জানতে পারে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আরও দুই ভারতীয়। তাঁরা হলেন জি হনুমানথারিয়াপ্পা ও এম রঙ্গাপ্পা। এছাড়া পি রসিনা নামে ৫৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় মহিলার কথা জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ি ছিল কেরালায়। এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জঙ্গি হানায় ছ’জন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

রবিবার সুষমা শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্যে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছেন, তাঁদের রাজ্যের এক মহিলাও মারা গিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিস্ফোরণে। যদিও সুষমা স্বরাজ বা কলম্বোয় ভারতীয় হাই কমিশন এসম্পর্কে কিছু জানায়নি।

শ্রীলঙ্কার বিস্ফোরণে কয়েক ডজন বিদেশী মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন ব্রিটেন, আমেরিকা, জাপান ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকেরা। এখনও পর্যন্ত ২৪ জনকে বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় জানানো হয়নি। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধনে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদীদের কেউ কেউ শহিদ বলে দেখানোর চেষ্টা করছে। এই প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

রবিবার সকালে স্থানীয় সময় পৌনে ন’টা নাগাদ কলম্বোয় সেন্ট অ্যান্টনিজ চার্চ, পশ্চিম উপকূলে নেগোম্বো শহরে সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ ও দেশের পূর্বদিকে বাতিকাল্লোয়া শহরে অপর এক গির্জায় একই সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। তখন ওই গির্জাগুলিতে ইস্টারের প্রার্থনা চলছিল।

একইসঙ্গে তিনটি পাঁচতারা হোটেলেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেগুলির নাম সাংগ্রি লা, সিনামোন গ্র্যান্ড ও কিংসবারি। পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য যে ভ্যানে বিস্ফোরক আনা হয়েছিল, সেটি আটক করা হয়েছে। ভ্যানের চালকও ধরা পড়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা গত তিন মাস ধরে কলম্বোর অদূরে পানাদুরা নামে এক জায়গায় ঘাঁটি বানিয়েছিল। সে বাড়িটিতে তারা থাকত, তা চিহ্নিত করা গিয়েছে।

রবিবার বিস্ফোরণের পরেই শ্রীলঙ্কা জুড়ে কার্ফু জারি করা হয়। সোমবার সকালে কিছুক্ষণের জন্য কার্ফু শিথিল করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাষ্ট্রনায়করা বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল শ্রীসেন ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মোদী বলেন, খুব ঠান্ডা মাথায় ছক কষে ওই বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার লোকসংখ্যা মাত্র ২ কোটি ১০ লক্ষ। তাঁদের মধ্যে ছয় শতাংশ খ্রিস্টান। ওই দ্বীপরাষ্ট্রে অতীতেও তাঁদের ওপরে আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু এত বড় হামলা আর কখনও হয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More