হাসপাতালে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে, তাতে চলবে আর ৩-৪ ঘণ্টা, সতর্ক করলেন মহারাষ্ট্রের ডাক্তার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে ম্যাককারে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এখন চিকিৎসা হচ্ছে ৮৫ জন কোভিড রোগীর। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সতীশ সোনাভানে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “বর্তমানে অক্সিজেনের সংকট চলছে। কয়েকদিন আগে থেকেই সংকট শুরু হয়েছে। এখন যে পরিমাণে অক্সিজেন আছে, তাতে তিন-চার ঘণ্টা চলতে পারে…।”

সোনাভানে জানান, হাসপাতালে যে ৮৫ জন কোভিড রোগী আছেন, তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশকে, অর্থাৎ ৭০ জনকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। ২৫ জন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে আছেন। তাঁর কথায়, “স্থানীয় ভেন্ডাররা অক্সিজেনের যোগান দিতে পারছে না। এভাবে চললে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে আমরা কয়েকজন রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু এখন সব হাসপাতালেই অক্সিজেনের সংকট চলছে।”

সোনাভানের দাবি, নগর প্রশাসন আরও অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। অভিযোগ, অক্সিজেন সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে।

সোনাভানে বলেন, “আজ আহমেদনগরে ৬০ মেট্রিক টন অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা পেয়েছি মাত্র ২৩ মেট্রিক টন। রাত ন’টা নাগাদ আমরা আরও অক্সিজেন পেতে পারি। কিন্তু সবকিছু যদি ঠিকমতো না চলে…।”

ওই হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি করানো বন্ধ হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের আত্মীয়দের বলা হচ্ছে, পারলে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। সোনাভানে বলেন, সব হাসপাতালেই রোগী ভর্তি।

দিল্লি সরকারেরও অভিযোগ, তারা যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন পাচ্ছে না। তাদের বক্তব্য, অক্সিজেন সরবরাহে বৈষম্য করা হচ্ছে। একটি ‘বড় রাজ্যে’ অক্সিজেন পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি সেই রাজ্যের নাম করেনি। তাদের বক্তব্য, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হবে। হাইকোর্ট এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করে, কোনও কারখানায় কি অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে? বিচারপতি বিপিন সাঙ্ঘি ও বিচারপতি রেখা পাল্লিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করে, “কারখানায় পরেও অক্সিজেন পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু রোগীদের অপেক্ষা করানো যায় না। তাহলে অনেকের প্রাণ বিপন্ন হবে।”

বিচারপতিরা বলেন, তাঁরা শুনেছেন, গঙ্গারাম হাসপাতালের ডাক্তাররা বাধ্য হয়ে কোভিড রোগীদের অক্সিজেন কম দিচ্ছেন। কারণ হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ২২ এপ্রিল থেকে শিল্পের প্রয়োজনে অক্সিজেন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হচ্ছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, “আজ থেকেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না কেন? মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আপনারা কি রোগীদের বলবেন, অক্সিজেনের জন্য ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More