বেলাগাম করোনায় কিছুটা রেহাই, গ্রাফ সামান্য নামলেও টানা ১০ দিন ধরে ৩ লক্ষাধিক দৈনিক সংক্রমণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগামছাড়া কোভিড হানাদারির আবহে অবশেষে কিছুটা হলেও স্বস্তি। ক্রমশ উঠতে থাকা করোনা সংক্রমণের গ্রাফ সামান্য নীচে বাঁক নিল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৩.৬৮ লক্ষ। একদিন আগের ৪ লক্ষ ছুঁয়ে ফেলা সংক্রমণের নিরিখে এই ৬ শতাংশ পড়তির ট্রেন্ড স্বাস্থ্য ও চিকিৎসক মহলে হাল্কা আশার আলো দেখিয়েছে।

অন্যদিকে সংক্রমণ আটকানো গেলেও মৃত্যুর হার কিছুতেই রোখা যাচ্ছে না। গতকাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৩ হাজার ৪১৭ জন সহনাগরিক কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন। সার্বিক মৃত্যুমিছিলে যে সংখ্যাটা বেড়ে প্রায় ২ লক্ষ ১৯ হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণের পাশাপাশি এদিন আমজনতার করোনা পরীক্ষার হারও অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে প্রায় ১৫ লক্ষ ৪ হাজার ৬৯৮ জন কোভিড টেস্ট করিয়েছেন। যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩ লক্ষ কম।

অবশ্য সামান্য কমতি-পড়তির এই হিসেবে সার্বিক দুর্যোগের ছবিটা কিন্তু বদলাচ্ছে না। কারণ, টানা ১০ দিন হতে চলল। সারা দেশে দৈনিক সংক্রমণ ৩ লক্ষের মাত্রা ছেড়ে নামছে না। এর মধ্যে রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা নয়া রেকর্ড তৈরি করে। একদিনে সারা দেশে কোভিড সংক্রমণ ৪ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। মারা যান ৩ হাজার ৬৮৯ জন। বেহাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মধ্যে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী এই গ্রাফ চিকিৎসক মহলে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশেষ করে রাজধানী দিল্লির কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। অক্সিজেনের ঘাটতি দূর করতে এখনও সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতাল সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালত আজ মধ্যরাতের মধ্যে রাজধানীর সমস্ত কোভিড হাসপাতালে প্র‍য়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে।

পাশাপাশি কোভিড-বিধ্বস্ত রাজ্যগুলিকেও সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল জারি হওয়া নির্দেশিকায় যে কোনও বড় সমাবেশ কিংবা জমায়েত বাতিল এবং প্রয়োজন পড়লে জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে লকডাউন ঘোষণার ছাড়পত্রও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের উপর ছেড়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সেই মোতাবেক সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে কড়াকড়ি বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে ওড়িশা, পাঞ্জাবের মতো একাধিক রাজ্য। ওড়িশায় আপাতত দু’সপ্তাহ এবং হরিয়ানায় চলতি সপ্তাহজুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবে কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া সড়ক কিংবা উড়ান— কোনও পথেই বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের রাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি জিম, রেস্তোরাঁ, সিনেমা হল সপ্তাহভর বন্ধ থাকবে বলে খবর।

এদিকে প্রশাসনিক নির্দেশিকা আঁটসাঁট করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও রদবদল আনা হচ্ছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পর্যালোচনা কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে জানানো হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া করোনা রোগীদের দেখভালের নয়া ব্যবস্থা আনা জরুরি। যার ফলে এমবিবিএস-এর চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়াদের বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড ডিউটিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে শনিবার করোনা মোকাবিলায় পরিকাঠামোগত দুর্দশার কথা কার্যত স্বীকার করে এইমসের প্রধান ড. রণদীপ গুলেরিয়া জানান, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে। তাই যেখানে যেখানে কোভিড পজিটিভিটির হার ১০ শতাংশের বেশি, সময় এসেছে, সে সমস্ত জায়গায় কড়া লকডাউন জারি করা। মডেল হিসেবে গত বছর মার্চ মাসের দেশজোড়া লকডাউনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More