দেশের দৈনিক মৃত্যু ফের ভাঙল রেকর্ড, দু’দিন নিম্নমুখী থাকার পরে সংক্রমণের ঢেউও তুঙ্গে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরপর দু’দিন নিম্নমুখী হয়েও ফের তেড়েফুঁড়ে বাড়ল দেশে করোনাভাইরাসের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। বেড়েছে করোনায় মৃত্যুও। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৩.৮২ লাখ মানুষ। গতকালই এই সংখ্যাটা ছিল ৩.৫৭ লাখ। তার আগের দিন ছিল ৩.৬৮ লক্ষ।

এবার ফের দৈনিক সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী দেশের করোনা গ্রাফ। ৩ লক্ষ ৮২ হাজার ৩১৫ জন নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার পরে দেশের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ কোটি ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার ১৪৮ জন। এই মুহূর্তে দেশে অ্য়াকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ৩৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৮৮।

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭৮০ জন, যা কিনা এযাবৎ রেকর্ড। সব মিলিয়ে দেশে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২ লক্ষ ২৬ হাজার ১৮৮। 

এর পাশাপাশি দেশে ভ্যাকসিন ও পরীক্ষার কিট– দুইয়েরই চরম সংকট দেখা যাচ্ছে। তাই আজ বুধবারই নয়া গাইডলাইন প্রকাশ করেছে আইসিএমআর। তাতে বলা হয়েছে, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া আসার ক্ষেত্রে আরটিপিসিআর পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। কোনও কোভিড আক্রান্ত সুস্থ হওয়ার পরে জ্বর না এলে আর পরীক্ষা করানোরও প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, দেশের ১৬ কোটি ৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ১৮৮ জনের টিকাকরণ হয়েছে। এখনও চলছে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়ার কাজ। তবে ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত না থাকায় ঘোষণা সত্ত্বেও ১৮ বছরের ঊর্ধ্বদের টিকাকরণ শুরু করা যায়নি। কোভ্যাক্সিন, কোভিশিল্ড ছাড়াও এখন রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি রয়েছে ভারতের হাতে। 

এসবের মধ্যেই সারা দেশে দৈনিক সংক্রমণ ৩ লক্ষের মাত্রা ছেড়ে নামছে না। এর মধ্যে রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা নয়া রেকর্ড তৈরি করে। একদিনে সারা দেশে কোভিড সংক্রমণ ৪ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। মারা যান ৩ হাজার ৬৮৯ জন। বেহাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মধ্যে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী এই গ্রাফ চিকিৎসক মহলে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশেষ করে রাজধানী দিল্লির কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। অক্সিজেনের ঘাটতি দূর করতে এখনও সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতাল সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালত আজ মধ্যরাতের মধ্যে রাজধানীর সমস্ত কোভিড হাসপাতালে প্র‍য়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে।

পাশাপাশি কোভিড-বিধ্বস্ত রাজ্যগুলিকেও সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল জারি হওয়া নির্দেশিকায় যে কোনও বড় সমাবেশ কিংবা জমায়েত বাতিল এবং প্রয়োজন পড়লে জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে লকডাউন ঘোষণার ছাড়পত্রও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের উপর ছেড়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More