প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসতো খাবারের একাংশ, জটিল অপারেশনে সাফল্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : প্রস্রাব করলেই সঙ্গে বেরিয়ে আসত কিছুক্ষণ আগে খাওয়া ভাত বা মুড়ি। সমস্যাটা আজকের নয়। নেড়োদিঘির বাসিন্দা শেখ রফিকুল ইসলাম যখন আট বছরের, তখন থেকেই। এখন রফিকুল ২৩ বছরের যুবক। বার কয়েক ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছেও গিয়েছেন মা নুরজাহান বিবি। কিন্তু ডাক্তাররা নাকি মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এমনটাই দাবি নুরজাহানের।

এ বার ছেলে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লে তাঁকে নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যা‌ন নুরজাহান বিবি। চিকিৎসা শুরু করেন ডাক্তার নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। সামনে আসে সব। মঙ্গলবার তাঁরই নেতৃত্বে জটিল অস্ত্রোপচার হল শেখ রফিকুলের। এখন ভাল আছে রফিকুল।

বাবা মারা গেছে বহু বছর আগে। মাকে নিয়ে সংসার রফিকুলের। শক্তিগড়ের জুটমিলে কাজ করেন দু’জনেই। নুরজাহান বিবি বললেন, ‘‘ছেলের বয়স যখন আট বছর তখন থেকেই দেখতাম কিছু খেলেই প্রস্রাব দিয়ে বেরিয়ে আসত। ভাবতাম গ্যাসের সমস্যা আছে। বেশি করে জল খেতে বলতাম। কয়েকবার ডাক্তারের কাছে নিয়েও গেছি। কেউ কিছু বলতে পারেনি। বলেছে মানসিক রোগ।’’

১৫ বছর এভাবে অবহেলাতেই কেটে গেছে। কিন্তু কয়েকদি‌ন আগে শরীর এতো খারাপ হয় যে কাজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আশেপাশের কয়েকজন ডাক্তারকে দেখিয়েছেন। কিন্তু ফল হয়নি কোনও। তারপরেই প্রতিবেশীদের পরামর্শে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে যান তিনি। ১৯ অক্টোবর রফিকুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর সিটি ইউরোগ্রাফি করেন। রিপোর্ট হাতে এলে তাজ্জব হয়ে যান তিনি। দেখেন রফিকুলের খাদ্যনালী ফুটো। খাদ্যনালীর নীচের অংশ ডিওডিনাম থেকে একটি সরু নালী তৈরি হয়ে চলে গিয়েছে কিডনির ইউরেটর পর্যন্ত। সেই নালী দিয়েই খাদ্যবস্তুর একাংশ চলে আসছে তাঁর মুত্রথলিতে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। অন্য দুই চিকিৎসক মধুসূদন চট্টোপাধ্যায় ও জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যকে নিয়ে তৈরি হয় মেডিক্যাল বোর্ড।

মঙ্গলবার প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলা এই অপারেশনের পর এখন রফিকুল ভাল আছে‌ন বলে জানিয়েছেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক নরেন্দ্রনাথবাবু। তিনি বলেন, ‘‘অপারেশন সফল হয়েছে। এখন রফিকুল সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে, গত একশো বছরে সারা বিশ্বে ১১টি এই ধরণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এই রোগের নাম ইউরেটেরো ডিওডেনাল ফিসচুলা।’’

রফিকুল কবে ভাল হয়ে বাড়ি ফিরবেন এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন তাঁর মা নুরজাহান। ছেলের বিপদ কাটায় বারবার ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More