শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

যোগীর সভা থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ বিজেপি কর্মী, সেই বলরামপুরেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া :  সেই বলরামপুরেই ফের নিখোঁজ হলেন এক বিজেপি কর্মী। তাই আশঙ্কা গ্রাস করেছে গোটা এলাকাকে। গতকাল ভাঙড়ার নবকুঞ্জ মাঠে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভায় গিয়েছিলেন  স্থানীয় বিজেপি কর্মী কার্তিক গড়াই। তারপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। বলরামপুরের কর্মা গ্রামে বাড়ি বছর ৩৫ এর যুবক কার্তিকের। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাই অপহরণ করেছে তাঁকে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এক সপ্তাহের ব্যবধানে বলরামপুরে খুন হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমার। ৩০ মে বলরামপুর থানার সুপুরডি গ্রামের বাসিন্দা ১৯ বছরের যুবক ত্রিলোচন মাহাতোর ঝুলন্ত মৃতদেহ গ্রামেরই অদূরে একটি শিরিশ গাছ থেকে উদ্ধার হয়। আগের রাতে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর গেঞ্জিতে লেখা ছিলো “বিজেপি করার জন্যই তোকে হত্যা করা হলো”। এই হত্যাকাণ্ডের পরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন হয়। ত্রিলোচন মাহাতো খুনের এক সপ্তাহ পরে সেই বলরামপুরেই খুন হন আরেক বিজেপি কর্মী দুলাল কুমার। তিনি ছিলেন ডাভা গ্রামের বাসিন্দা। এই দুটি ঘটনাতেই অভিযোগের আঙুল ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

গতকাল পুরুলিয়ার ভাংড়া গ্রামে যোগী আদিত্যনাথের সভা ঘিরে প্রথম থেকেই চলছিল টানাপড়েন। উত্তেজনার পারদও চড়ছিল। প্রশাসন যোগীর হেলিকপ্টার নামার ও সভার অনুমতি না দেওয়ায় সভা হবে কি না তা নিয়ে ছিল সংশয়। তবে শেষপর্যন্ত বোকারোয় হেলিকপ্টার থেকে নেমে সড়ক পথে পুরুলিয়ায় এসে সভা করেন যোগী। আর এই সভা থেকে ফেরার পথেই নিখোঁজ হয়ে যান কার্তিক। ছোট উরমা থেকে কর্মা যাওয়ার রাস্তায় ৩২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে কিছুটা দূরে তার  মোটরবাইকটি উদ্ধার হয়। সেখানে পড়ে রয়েছে তাঁর মোবাইলের ভাঙা অংশও।

কার্তিকের দাদা বুধু গরাই জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ায় সময় কার্তিক তাঁর স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, সভা সেরে বাড়ি ফিরতে রাত হবে। কিন্তু অনেক রাত পর্যন্ত তিনি বাড়িতে না ফেরায় দলের কর্মীদের বিষয়টি জানান তাঁরা। ততক্ষণে অবশ্য কার্তিকের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন বিজেপির কর্মীরা। সুবীর ঘোষ নামে এক বিজেপি কর্মী বলেন, “সন্ধে সাতটা ৪৮ মিনিট নাগাদ আমার মোবাইলে ফোন করে কার্তিক জানান, তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের দুটি গাড়ি তাঁকে তাড়া করেছে। বাঁচাতে বলছিল বারবার। এরপর আর ওর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।” খুঁজতে বেরিয়ে কার্তিকের মোটরবাইক ও ভাঙা মোবাইল রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এরপরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। যে জায়গা থেকে কার্তিক গড়াইকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সেই জায়গাটিও ঘিরে রেখেছে বলরামপুর থানার পুলিশ।

Shares

Comments are closed.