মুর্শিদাবাদ থেকে জঙ্গিযোগে ধৃত ৬ জনকে আজই দিল্লি নিয়ে যাচ্ছে এনআইএ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলকায়দা জঙ্গি যোগের সন্দেহে মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃত ৬ অভিযুক্তকে আজ সোমবারই দিল্লি দিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অধরাই থেকে গেল সন্দেহভাজন সপ্তমতম জঙ্গি মুন্না সরকার।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা তথা এনআইএ-র ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট বলেছিল, মূলত রাজধানী দিল্লিতে হামলার ছক কষছিল আলকায়দা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ তারিখে দিল্লিতে রুজু হয় একটি মামলাও। তার পরেই গত শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের ডোমকল এবং জলঙ্গি থেকে ৬ জন আল-কায়দা জঙ্গিকে ধরে এনআইএ।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃতদের থেকে কথা বের করতে রীতিমতো ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে গোয়েন্দাদের। তাই কলকাতার এনআইএ স্পেশাল কোর্টে ধৃতদের ২৪ সেপ্টেম্বর অবধি যে ট্রানজিট রিমান্ড দেওয়া হয়েছে, তাকেই কাজে লাগানোর জন্য দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হবে তাদের। এর মধ্যে দিল্লির পাতিয়ালা কোর্টে ধৃতদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২৮ তারিখ ফের কলকাতা নগর দায়রা আদালতে ধৃত জঙ্গিদের পেশের আগে, এই সময়কালের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে এনআইএ-কে। অন্যদিকে কেরল থেকে ধৃত ৩ জনকেও আজই নিয়ে আসা হচ্ছে দিল্লিতে।

অভিযোগ, তারা বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তদন্তকারীদের। এদিকে গোয়েন্দাদের কাছে এখন প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে জঙ্গিদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। আর সেই গ্রুপ থেকেই আরও দুই জঙ্গির খোঁজ পাওয়া গেছে বলে সূত্রের খবর।

জানা গেছে, ডোমকল, রানিনগর থেকে ধৃত ছ’জনকে জেরা করে তেমনই তথ্য পেয়েছেন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা। জানা গিয়েছে, আলকায়দা যোগে ধৃতরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত। সেই গ্রুপেই নতুন স্ট্র্যাটেজি, জঙ্গি নেতাদের বক্তব্য, জেহাদি দস্তাবেজ চালাচালি চলত।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ওই হোয়াটসগ্রুপে ২২ জন সদস্য ছিল। মোট ন’জনকে এখনও পর্যন্ত ধরেছে এনআইএ। ছ’জনকে মুর্শিদাবাদ থেকে। এবং তিন জনকে কেরলের এর্নাকুলাম থেকে। ওই তিন জনও মুর্শিদাবাদেরই বাসিন্দা। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বাকি ১৩ জনই নাকি মালদার।

এনআইএ মনে করছে, বাকিরা সকলেই মালদার বৈষ্ণবঘাটা এবং কালিয়াচক এলাকার। এবার সেই সমস্ত এলাকায় তল্লাশির প্রস্তুতি শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। সন্দেহভাজনরা যাতে পালাতে না পারে সেদিক লক্ষ্য রেখে কোমর বেঁধে নামতে চাইছে এনআইএ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More