সুপারফুড হিসেবে এবছর সেরা সাত হয়ে উঠেছে কোনগুলি? কেনই বা এমন তকমা পেয়ছে তারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাসের আতঙ্কে একটা গোটা বছর কেটে গেল। হঠাৎ করেই লকডাউন। দীর্ঘদিন গৃহবন্দি অবস্থাতেই, বাড়ির খাওয়া-দাওয়ারও খানিক পরিবর্তন হয়েছে। বছরটা কেমন কেটেছে এই প্রশ্নের উত্তর মোটামুটি সবার জানা। কিন্তু এবছরটাই আবার শিখিয়েছে কীভাবে নিজের যত্ন নিতে হয়, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়। ২০২০ সালে বেশিরভাগ মানুষই ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে ডায়েটের উপর বিশেষ নজর দিয়েছেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার থেকে শুরু করে সুপারফুড সবটাই প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক নজরে দেখে নিন এবছরের খাদ্যতালিকায় সেরার সেরা খাবার কোনগুলো –

১. গিলয় –

রোগ প্রতিরোধে গিলয়ের ভূমিকা কেমন, সেটা অনেকেই জানেন। শুধু ইমিউনিটি ব্যুস্ট করে না, শরীরের যাবতীয় টক্সিন বের করে দেয়। কাড়া তৈরি করার সময় এটা ব্যবহার করতে পারেন। আবার বাজারে এর সাপ্লিমেন্টসও পাওয়া যায়।‌ করোনা আবহে ডাক্তাররা প্রথম থেকেই গিলয় খাওয়ার প্রতি জোর দিয়েছিলেন।

২. আমলকি –

এবছরে ভিটামিন সি ট্যাবলেটের চাহিদা এত বেশি ছিল, যে একটা সময় বাজার ঘুরেও পাওয়া যাচ্ছিল না। সেসময় ডাক্তাররা আমলকির উপর ভরসা করতে বলেছিলেন। বাজারে আজকাল সারাবছরই আমলকি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন এ, পলিফেনল, ফ্ল্যাবোনয়েড। নিয়মিত খেলে শরীরের শ্বেতরক্তকণিকার সংখ্যা বাড়ে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। জ্বর, সর্দিকাশির সময় কাঁচা আমলকি খেলে উপকার পাবেন।

৩. তুলসী –

বছরটা জুড়ে প্রত্যেকেই আতঙ্কে কাটিয়েছেন। অতিরিক্ত স্ট্রেস, টেনশনের প্রভাবও পড়েছে শরীরের উপর। তুলসীপাতা নার্ভ সিস্টেমকে শান্ত রাখে। স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। তবে চিবিয়ে নয়।‌ চায়ের সঙ্গে বা মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেতে বলছেন ডাক্তাররা।

৪. চিয়া সিড –

পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া সিডকে সুপারফুড বলা হয়। প্রোটিন, মিনারেলস সমৃদ্ধ এই খাবার প্রতিদিন খেতে বলছেন ডাক্তাররা। একদিকে যেমন ইমিউনিটি ব্যুস্ট করে, তেমনই ব্লাড প্রেসারও নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন সকালে চিয়া সিড মেশানো জল, বা স্যালাডের মধ্যে দিয়েও খেতে পারেন এটি।

৫. মুসম্বি লেবু –

সারাবছরই বাজারে পাওয়া যায় মুসম্বি লেবু। আর এখন শীতের বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে কমলালেবু। ভিটামিন সিতে ভরপুর এই ফল প্রতিদিন একটা করে খেতে বলছেন ডাক্তাররা। ইমিউনিটি ব্যুস্ট করে, এমনকি ক্লান্তিভাবও দূর করে। জ্বর হলে, মুখের স্বাদও ফিরে আসে এই লেবু খেলে।

৬. গোল মরিচ –

এই বছরটাতেই অনেকে শিখে গেছেন কতরকমভাবে গোল মরিচ ব্যবহার করা যায়। এমনকি চায়েও গোল মরিচ মিশিয়ে খেতে বলছেন ডাক্তাররা। পুষ্টিগুণে ভরপুর গোলমরিচ কাড়া তৈরিতে বিশেষভাবে কাজে লাগে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে নয়। চা, স্যালাডে সামান্য পরিমাণে গোল মরিচ মিশিয়ে খেতে বলছেন নিউট্রিশনিস্টরা।

৭. অশ্বগন্ধা –

শরীরের কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে। স্ট্রেস, টেনশন কমাতেও সাহায্য করে। শুধু এই বছরেই না। সাধারণত যাঁরা অতিরিক্ত টেনশন করেন, বা যাঁরা হাইপারটেনশনের রোগী তাঁদের অশ্বগন্ধা খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More