একদিনে ৭৮০ জন মৃত কোভিডে, দেশে ভাঙল এবছরের রেকর্ড! সংক্রামিত ১ লক্ষ ৩১ হাজার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিলই। এবার রীতিমতো আতঙ্কিত পরিস্থিতি দেশে। আজ, শুক্রবার চলতি বছরে দৈনিক মৃতের নিরিখে নতুন রেকর্ডের সাক্ষী থাকল দেশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮০ জন মারা গেছেন করোনা সংক্রমণে।

গত বছরের শেষের দিকে করোনা পরিস্থিতি এ দেশে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, গত মাস দুয়েক ধরে ফের আছড়ে পড়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। চড়চড় করে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের গ্রাফ। তবে প্রথম দিকে আশা করা যাচ্ছিল, করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুহার হয়তো কম থাকবে। সে আশা ক্রমেই নিভিয়ে দিচ্ছে পরিসংখ্যানই।

শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৬৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের থেকে প্রায় ৫ হাজার বেশি। শুধু মহারাষ্ট্রেই প্রায় ৬০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশের ছবিটাও রীতিমতো উদ্বেগজনক।

এর ফলে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৪২ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭৮০ জনের, যা দৈনিক হিসেবে চলতি বছরে সর্বোচ্চ।

যত মানুষ সংক্রামিত হচ্ছেন, তত মোটেও সেরে উঠছেন না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৮৯৯ জন। যা দৈনিক আক্রান্তের থেকে অর্ধেকেরও কম। যার ফলে দেশের মোট অ্যাকটিভ কেস একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬০৮ জন। দেশে পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৯ লক্ষ ১৩ হাজার ২৯২ জন।

আশ্চর্যের বিষয় হল, টিকাকরণ চলছে পুরোদমে। সেখানে আশা করা গেছিল, সংক্রমণের মাত্রা খানিকটা কমবে। কিন্তু বাস্তবে তা হল না। তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত দেশে মোট টিকা পেয়েছেন ৯ কোটি ৪৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৬২ জন।

এই পরিস্থিতিতে আবারও দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বলেন, “যুদ্ধকালীন তৎপরতায় করোনা রুখতে হবে।” এদিন করোনা প্রতিরোধে কার্যত যুদ্ধই ঘোষণা করেন তিনি।

এর আগের বৈঠকেও টেস্টিং, ট্রেসিং ও ট্রিটমেন্ট-সহ পাঁচ স্ট্র্যাটেজি নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। এবারও বললেন, একজন আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছে এমন অন্তত ৩০ জনকে খুঁজে বের করতে হবে। আর তা করতে পারলে সেকেন্ড ওয়েভের চেন ভাঙা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

এসবের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ ঠেকানো প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ”করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের একটা বড় কারণ দেশবাসীদের গা-ছাড়া মনোভাব। অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের পদক্ষেপেও এই গয়ংগচ্ছ বিষয়টি লক্ষ্যনীয়। এই মনোভাব নিয়ে চললে করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউকে ঠেকানো যাবে না।”

তবে পুরোপুরি লকডাউনের কথা এখনই বলছেন না প্রধানমন্ত্রী। তিনি মাইক্রো-কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করায় জোর দেন, এবং সে সব জায়গায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার কথা বলেন। এছাড়া রাত্রি নটা বা দশটা থেকে ভোর পাঁচটা বা ছ’টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করা যেতে পারে। তবে তার পোশাকি নাম হবে করোনা কার্ফু।

এসবের পাশাপাশি, গোটা দেশে টিকা উৎসব পালন করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নতুন উপায় বের করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশে ৪৫ বছরের উর্ধ্বে সকলের টিকাকরণের জন্য ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল গোটা দেশে টিকা উৎসব পালন করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More