সাঁকরাইলে বাড়ির সামনে মাচা তৈরি করে যুবকদের হুল্লোড়, প্রতিবাদে খুন হলেন গৃহকর্তা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিনা অনুমতিতে গৃহস্থ বাড়ির সামনে মাচা তৈরি করেছিল স্থানীয় যুবকরা। নিয়মিত আড্ডা এবং তাসের আসর বসছিল সেখানেই। সেই নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল গৃহকর্তার।

আজ সকালে সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত নলপুর সাড় পাড়ায় মর্মান্তিক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ সুত্রে খবর, নলপুর সাড় পাড়ার বাসিন্দা হরেন সাড় (৫২) আজ সকালে স্থানীয় যুবকদের হাতে খুন হন। জানা যায়, হরেনের বাড়ির সামনের জমিতে কিছুদিন আগেই মাচা তৈরি করে স্থানীয় ক্লাবের যুবকরা। সেখানেই বসে তারা দিনরাত তাস খেলার পাশাপাশি হই হুল্লোড় করত। এই নিয়ে হরেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। তবু কোনও সুরাহা হয়নি।

সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ায় গতকাল লোক লাগিয়ে সেই মাচা ভেঙে দেন হরেন। তারপরই স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে ব্যাপক গন্ডগোল বাধে। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা এবং হাতাহাতি শুরু হয়। যদিও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় সেদিনের মত মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছিল। হরেন তা টের পাননি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ হরেন সাড় নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে দোকানে বিড়ি কিনতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় স্থানীয় যুবক সুভাষ সাড় ও তার সঙ্গীরা মিলে তাঁর ওপর চড়াও হয়। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে হরেনের মাথার পেছনে আঘাত করে। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

বেগতিক দেখে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা হরেনকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে প্রথমে রানিহাটির একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উলুবেরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। সকাল দশটা নাগাদ হরেন মারা যান। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই পৌঁছে যায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা। মূল অভিযুক্ত সুভাষ সাড় ও তার সঙ্গীরা অবশ্য পলাতক। তাদের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More