গোলাপি রঙের নদী! রূপকথা নয়, ফুলের সাজে সত্যি এমনটা ঘটেছে ভগবানের আপন দেশে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন রূপকথা! রূপকথার গোলাপি নদী নেমে এসেছে বাস্তবের মাটিতে। তবে আসলে এটা রূপকথা নয়, সত্যি এমন ঘটনা ঘটেছে কেরালায়! যতদূর চোখ যাবে দেখতে পাবেন গোলাপি রঙের নদী বয়ে যাচ্ছে।

কেরালার একটি ছোট্ট গ্রাম, বলা ভাল ঘুমন্ত গ্রাম আজ খবরের শিরোনামে রয়েছে এই গোলাপি নদীকে কেন্দ্র করে। কেরালার পেরামব্রার কাছে কোজিকোড অঞ্চলের অবলা পান্ডির সমস্ত নদী হয়ে উঠেছে গোলাপি! না নদীর জল নয়, লক্ষ লক্ষ ফোর্কড ফ্যানওয়ার্ট ফুল বা শাপলা ফুল এসময়ে ফোটে আর সেই ফুলই নদীকে করে তুলেছে গোলাপি! যা মন কেড়েছেন সকলের। গোলাপি রঙের এই শাপলা ফুল ক্যাবোম্বা ফারকাটা মূলপরিবারের অন্তর্গত। ওই অঞ্চলের স্থানীয় মানুষেরা এই ফুলকে ‘মুল্লান পায়েল’ নামে ডাকে।

ইন্টারনেটে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গোলাপি নদী ছবি ভাইরাল হয়েছে। মন জিতে নিয়েছে নেটিজেনদের। আর ইতিমধ্যেই পর্যটকদের বেড়াতে যাওয়ার তালিকাতে যুক্ত হয়ে গেছে এই গ্রামটির নাম। নদীটি কোথা থেকে এসেছে বা কতদূর বয়ে গেছে সেই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলেও তাঁরা জানান যে বেশ কয়েক বছর আগে তাঁরা প্রথম এই ফুলগুলো দেখেন। তবে সেই সময় এই ফুলের সংখ্যা অনেক কম ছিল।

শুধু অবালা পান্ডিতে নয়, এই গোলাপি ফুলগুলো রাঙিয়ে তুলেছে কেরালার বিভিন্ন অঞ্চলকে। কোট্টায়াম জেলার মালারিক্কাল হল এমন একটি গ্রাম যেখানে রয়েছে এই গোলাপি ফুল। সেখানকার ছবিও ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। অনেকে একে জলের লিলি বলেছেন। ছোট কৃষিনির্ভর এই গ্রামে আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে প্রচুর পর্যটক আসেন এই জলের লিলি বা শাপলা দেখতে।

মালারিক্কাল মূলত ধান চাষের জন্য পরিচিত। যদিও আগস্ট, সেপ্টেম্বরে প্রচুর পরিমাণ ‘ওয়াটার লিলি’ ফোটে, যাকে স্থানীয় লোকেরা মালায়ালামে আমবাল বলেন। গ্রামে ৬০০-৭০০ একর ধানের ক্ষেত রয়েছে, সেখানে ফোটে এই জলের লিলি বা শাপলা ফুল।

ফুলের মরসুমে বহু মানুষ এখানে ভিড় করে আসেন। নৌকায় চেপে ছবিও তোলেন তবে এ বছর করোনা আবহে এসব বন্ধ রয়েছে। আশা করা যায় সামনের বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পর্যটকরা গোলাপি নদী দেখতে আসতে পারবেন কেরালাতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More