আব্বাসকে নিয়ে এত আপত্তি কীসের?

কোনটা ধর্মনিরপেক্ষতা আর কোনটা মৌলবাদ, তা আমাদের দেশে প্রায়ই গুলিয়ে যায়। প্রায়ই দেখা যায়, নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই কোনও দল বা ব্যক্তির ওপরে লাগানো হয় সাম্প্রদায়িকতার তকমা। রবিবার কংগ্রেস-বামের ব্রিগেড সমাবেশে আব্বাস সিদ্দিকির মঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে সেরকমই শুরু হয়েছে। যেন টুপি বা দাড়ি থাকলেই কেউ সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়।

সবাই জানত, আব্বাসের দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ব্রিগেডের সমাবেশে উপস্থিত থাকবে। কিন্তু সমাবেশের আগে কেউ তেমন বিরোধিতা করেনি। যত সমালোচনা শুরু হয়েছে ব্রিগেডের পরে।

ব্রিগেডের এক বড় অংশ ভরিয়েছিলেন আব্বাসের সমর্থকরা। তাঁদের অধিকাংশই তরুণ। সব দলই তরুণদের পক্ষে পেতে চায়। সেদিক থেকে বলা যায়, যুব জনতার একটা অংশকে আকর্ষণ করতে আব্বাস সফল।

‘ভাইজান’ মঞ্চে ওঠার সময় ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি। আব্বাস অনুগামীরা নেতাকে দেখেই স্লোগান দিতে থাকেন। অধীরবাবুকে কিছুক্ষণের জন্য বক্তৃতা থামিয়ে দিতে হয়। ব্যাপারটা অনেকের কাছে দৃষ্টিকটু ঠেকেছে।

ভাইজানের নিজের ভাষণেও কংগ্রেসের প্রতি অবজ্ঞার সুর খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। তিনি বলেছেন, বাম প্রার্থীদের জেতানোর জন্য ‘রক্ত দিয়ে’ লড়াই করবেন। কিন্তু কংগ্রেস প্রার্থীদের জন্য কী করবেন বলেননি। ভাইজানের বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরেই তাঁর অনুগামীদের একটা অংশকে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে দেখা গিয়েছে। এই ব্যাপারটা কংগ্রেস, বাম, উভয়ের কাছেই অস্বস্তির কারণ।

ভাইজানের সঙ্গে কংগ্রেস-বামের সখ্য নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল ও বিজেপি। সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ওই দুই দল যে জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে নয়, তা বোঝা গেল। বিজেপি আগেই বলেছিল, ব্রিগেড সমাবেশের জন্য লোক পাঠিয়েছে তৃণমূল। পরে গেরুয়া পার্টির নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ব্রিগেড সমাবেশে তোষণের রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে। রাজ্যের মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, দ্বিতীয়বার বাংলা ভাগের চক্রান্ত ব্যর্থ করুন।

তৃণমূল বা বিজেপি সমালোচনা করবেই। তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু ব্রিগেডের মঞ্চে আব্বাসকে দেখা যাওয়ার পরেই বাম ও কংগ্রেসের মধ্যেও শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বামপন্থীদের একাংশ ভাবছেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির’ সঙ্গে বোঝাপড়া করা কি ঠিক হচ্ছে? কংগ্রেসের আনন্দ শর্মাও টুইট করে জানতে চেয়েছেন, আব্বাস সিদ্দিকি কে?

ভাইজান বাংলার মূলস্রোতের রাজনীতিতে আসতে চাইছেন। তিনি কি সাম্প্রদায়িক? তাঁর কথাবার্তা শুনে এখনও তেমন মনে হয়নি। তাঁকে আরও সময় দিতে হবে। তবে বোঝা যাবে, তিনি কীরকম রাজনীতি করতে চান। কিন্তু ব্রিগেড সমাবেশে ভাইজান এমন কিছু বলেননি যাতে মনে হতে পারে তিনি সাম্প্রদায়িক। বরং তিনি তফসিলী জাতি-উপজাতি ও গরিব মানুষের কথা বলেছেন। এখনই তাঁকে নিয়ে এত হইচই কীসের।

এই বিতর্কের মধ্যে দিয়ে হয়তো আব্বাসের লাভ হচ্ছে। নেগেটিভ পাবলিসিটিও একটা পাবলিসিটি তো বটে। কয়েকমাস আগেও একটা নির্দিষ্ট বৃত্তের বাইরে কেউ তাঁর নাম জানত না। কিন্তু ব্রিগেড নিয়ে এই হইচইয়ের মধ্যে দিয়ে আরও অনেকে জেনে গেল। এর ফলে ভাইজানের মূলস্রোতের রাজনীতিতে জায়গা করে নিতে সুবিধা হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More