আব্বাস সিদ্দিকির নতুন দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট, লড়বে একুশের ভোটে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি যে একুশের ভোটের আগে নতুন দল করতে চলেছেন তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে নতুন দলের নাম ঘোষণা করে দিলেন ফুরফুরার ‘চশমে চিরাগ’। আব্বাসের নতুন দলের নাম ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)।

এদিন আব্বাস আরও জানান, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট্রের কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যান হলেন নওসাদ সিদ্দিকী, দলের সভাপতি শিমুল সোরেন।

এদিন দল ঘোষণা করে আব্বাস বলেন, আইএসএফ-এর লড়াই সামাজিক ভাবে অনগ্রসর সমস্ত অংশের মানুষের জন্য। তাঁর কথায়, আদিবাসী, তপশিলী, নিম্ন বর্ণের হিন্দু — যাঁদের কাছে এখনও উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও পৌঁছয়নি তাঁদের হয়েই লড়াই করবে এই নতুন দল।

আইএসএফ-এর তরফে প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে সংবিধানের মৌলিক বিষয় ধর্মনিরপেক্ষতা আক্রান্ত হচ্ছে। উই দ্য পিপল-এর ধারণা ভূলুন্ঠিত হতে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে তাই নতুন লড়াই শুরু করতে চলেছে এই দল। যার মূল কথা নামেই নিহিত, ধর্মনিরপেক্ষতা।

আরও পড়ুন: ‘হ্যাঁ আলাদা দলই করছি’, সঙ্গে ১০টা পার্টি নিয়ে হবে ‘সংখ্যালঘু মহাজোট’

এদিন আব্বাস জানিয়েছেন, আগামী দিনে ব্রিগেডে সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

৩ জানুয়ারি রবিবার সকালে ঘুম ভাঙার আগেই দেখা যায়, মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ফুরফুরা শরিফে অজু করছেন। পরে নমাজ, হাল্কা প্রাতঃরাশ সেরে বেলা বেলা বেরিয়ে যান তিনি। তার আগে ফুরফুরার ‘চশমে চিরাগ’ আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকিকে পাশে নিয়ে বলেন, “বাংলায় আমরা লড়ব। আব্বাসের নেতৃত্বেই লড়ব। তাঁর নির্দেশেই চলব। বাকিটা উনিই বলবেন।”

আব্বাস সে দিন বিশেষ কিছু আর জানাননি। কয়েকদিন পর ‘দ্য ওয়াল’কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বলেন, “হ্যাঁ আমি পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করছি। নির্বাচন কমিশনে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পার্টির কী নাম দিয়েছি তা খুব শিগগির সাংবাদিক বৈঠক করে জানাব।” এদিন তা জানিয়ে দিলেন আব্বাস।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস চাপে রয়েছে। কারণ দল ভাঙছে। একের পর এক সাংসদ, বিধায়ক, শক্তপোক্ত নেতা তাঁরা বিজেপিতে যাচ্ছেন। অনেকে বেসুরো গাইছেন। এর মধ্যেই আব্বাসের নতুন দল তৃণমূলের আরও উদ্বেগ বাড়াবে বলেই মত তাঁদের।

রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, আগে যেমন সংখ্যালঘু ভোটে বামেদের আধিপত্য ছিল তৃণমূল আসার পর সেই ভোট ঢেলে পড়ে তাদের বাক্সেই। সংখ্যালঘু ভোট যে তৃণমূলের অন্যতম ভরসা তা নিয়ে লুকোছাপা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই লোকসভা ভোটের পর বলেছিলেন, “এবার ভোটটা টোটাল হিন্দু মুসলমান হয়েছে। যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও সহ্য করতে পারি।”

এর মধ্যে আবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক আহ্বান জানিয়েছেন আব্বাসকে বাম-কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ জোটে শামিল হতে। যদিও মিম নিয়ে সিপিএমের আপত্তি রয়েছে। তবে সূর্যবাবু বলেছেন, আব্বাস কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কথা বলছেন না। ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বহুজনের কথা বলছেন।

সব মিলিয়ে আব্বাসের নতুন দল কি বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ রচনা করতে পারবে? সেই কৌতূহল থাকবে রাজনৈতিক মহলে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More