লালকেল্লায় হিংসায় অভিযুক্ত দীপ সিধুর বিরুদ্ধে মামলা, জেরার জন্য ডাকা হবে শীঘ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো : একাধিক কৃষক নেতা আগেই বলেছিলেন, প্রজাতন্ত্র দিবসে হিংসায় উস্কানি দিয়েছিলেন গায়ক দীপ সিধু। লালকেল্লায় হিংসার যে ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানেও দীপ সিধুকে দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা লালকেল্লায় ‘নিশান ই সাহিব’ পতাকা লাগিয়ে দেয়। তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বৃহস্পতিবার জানা গেল, দীপ সিধুর নামে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁকে জেরার জন্য ডাকা হবে শীঘ্র।

মঙ্গলবার দিনভর দিল্লির রাস্তায় হিংসাত্মক ঘটনা ঘটার পরে সন্ধ্যায় ২৬ টি মামলা করে দিল্লি পুলিশ। কয়েকজন কৃষক নেতার বিরুদ্ধেও হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, হিংসার জন্য কৃষকরাই দায়ী। অন্যদিকে কৃষক নেতাদের বক্তব্য, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অন্তর্ঘাত করা হয়েছে। বাজেটের দিন সংসদ অভিযানের কর্মসূচিও তাঁরা স্থগিত রেখেছেন। লালকেল্লায় কৃষকদের বিক্ষোভের পর ঐতিহাসিক সৌধটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথম যে নেতা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙেছিলেন, তাঁর নাম সতনাম সিং পান্নু। তিনি বুধবার বলেন, তাঁদের মিছিল থেকে বারবার পুলিশকে বলা হয়েছিল তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে আউটার রিং রোডে যেতে চান। কিন্তু পুলিশ তাঁদের যেতে বাধা দিয়েছিল। তাই তাঁরা ব্যারিকেড ভেঙেছিলেন।

সতনাম সিং পান্নু কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির সদস্য। তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ওই সংগঠন গত দু’মাস ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান করছে। ওই সংগঠনের সদস্যরাই দিল্লির ‘মুকারবা চৌক’ অঞ্চলে প্রথমে ব্যারিকেড ভাঙে।

সতনাম সিং পান্নু বলেন, মিছিলের রুট যে বদলানো হয়েছে, তা আগে জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “আমরা দিল্লির কাছে পৌঁছে ঘোষণা করেছিলাম, আউটার রিং রোডে যেতে চাই। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চাও তাই বলেছিল। পরে তারা বলে, ওই পথে যাবে না। পুলিশ আমাদের থামাতে চেষ্টা করলে আমরা ব্যারিকেড ভেঙে দিই।”

লালকেল্লার ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “সেখানে যা হয়েছে, তাঁর জন্য দায়ী দীপ সিধু। পুলিশ তাকে থামায়নি কেন? সে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ।”

দীপ সিধু ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, তাঁরা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেননি। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসাবে ‘নিশান ই সাহিব’ পতাকা লাগিয়েছিলেন।

তাঁর কথায়, “আমরা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানোর জন্য নিশান সাহিব ও কৃষক সংগঠনের পতাকা লাগিয়েছিলাম। জাতীয় পতাকার অবমাননা করিনি। আমরা কিষাণ-মজদুর একতা নিয়ে স্লোগানও দিয়েছিলাম।”

লালকেল্লার ঘটনার সমর্থনে দীপ সিধু বলেন, গণ আন্দোলনে ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ দেখা যেতেই পারে। যখন মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তখন সে রাগবেই।

অভিনেতার দাবি, বিক্ষোভকারীরা কোনও সম্পত্তির ক্ষতি করেননি। তাঁর কথায়, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More