বিফ রান্নার কথা বলার ‘অপরাধে’ দেবলীনাকে চরম অশ্লীল আক্রমণ, মুখ খুললেন তথাগত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় জঘন্য কাদা ছোড়াছুড়ি বেশ কিছু দিন ধরেই যেন একটা ‘সংস্কৃতি’ হয়ে উঠেছে! কারও কোনও মতামত পছন্দ না হলেই যেন তাঁকে অশ্লীল থেকে অশ্লীলতর ভাষায় আক্রমণ করা যায় ভার্চুয়ালি। শিল্পের স্বাধীনতা, শিল্পীর স্বাধীনতা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষেরও বাক্ স্বাধীনতা বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়েছে এই পরিস্থিততে। অবশ্য শুধু মতামতের উপরেই এই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে না। সেটি সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় ব্যক্তিজীবন থেকে পরিবার, পেশা থেকে পোশাক– সর্বত্র। আগল নেই কোথাও কোনও।

আবারও এই আগলবিহীন অসভ্যতার মুখে আবারও পড়েছেন বাঙালি অভিনেত্রী! কিছুদিন ধরেই আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্ম প্রায়ই হাতিয়ার হয়েছে অনেক দলের। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতির লড়াই আজও চলছে। সেই লড়াইয়ের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে সম্পর্ক ও গণতন্ত্রকে। বাদ যাচ্ছে না মানুষের খাদ্যাভাস, বাক্ স্বাধীনতা! আর এবার এই সব কিছুর শিকার বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত মুখার্জী। শুধু দেবলীনা নয়, নাম এসেছে গায়ক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়েরও।

অসহনীয় আক্রমণে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এবং অনেকটা যেন ভয় পেয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখতে হয়েছে দেবলীনার স্বামী, অভিনেতা তথাগত মুখোপাধ্যায়কে। আক্রমণের স্বরূপগুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন তিনি, প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তার। আসলে শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি আজ এই প্রশ্নগুলো তুলেছেন!

ঘটনার সূত্রপাত, কয়েকদিন আগে। বৈদ্যুতিন মাধ্যমে একটি টক শো-তে গিয়ে দেবলীনা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের কথার প্রসঙ্গ ধরে জানান যে তিনি নিজে নিরামিষাশী হলেও প্রয়োজনে নবমীর দিন অনিন্দ্যর বাড়িতে গিয়েও গোরুর মাংস রান্না করে খেতে দিতে পারবেন, কারণ খাওয়া নিতে তাঁর কোনও ছুৎমার্গ নেই! ‘অপরাধ’ বলতে এই মতামত প্রকাশ্যে জানানোটুকুই। আর এতেই যেন তুষে আগুন পড়ে, যাতে পুড়ে যায় অনেকের ধর্মীয় ভাবাবেগ।

তথাগত মুখোপাধ্যায় লেখেন, এর পরেই তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয় নোংরা আক্রমণ। এখানেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে বিজেপির নেতা বাবুল সুপ্রিয়ও জানান যে কলেজ লাইফে তিনি বিফ খেয়েছেন তাহলে সেক্ষেত্রে কেন কোনও কথা ওঠেনি? এর সঙ্গে আরও বলেছেন যে হিন্দুধর্মে গোরু খাওয়া যদি অন্যায় হয় তাহলে শুয়োর তো বিষ্ণুর অবতার সেটা নিয়ে কেন কোনও কথা হয় না?

দেখুন তথাগতর সেই পোস্ট।

তথাগত নাম উল্লেখ করে অভিযোগ এনেছেন বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বিরুদ্ধে, তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে নানাভাবে, অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করতে থাকেন দেবলীনাকে। এমনি দেবলীনাকে খুনের হুমকি, রেপ থ্রেট, গণধর্ষণের মতো কথাও বলা হয়। জানতে চাওয়া হয় দেবলীনার ‘রেট’ কত? এই অশ্লীল আক্রমণগুলির স্ক্রিনশটও পোস্ট করেছেন তথাগত।

তথাগত লিখেছেন, “কাল রাত্তির থেকে সোশাল মিডিয়াতে “রেপ থ্রেট,মাথা কেটে ফেলার হুমকি, গণধর্ষণ, প্রকাশ্যে চাবকানো, ন্যাংটো করে নাচানো– আরো কতকি, এই ধরনের বিভিন্ন কমেন্ট আসছে দেবলীনা ফেসবুক, ইন্সটা এবং ইউটিউব চ্যানেলে, মাথায় রাখতে হবে এই সব প্রোফাইল অর্থাৎ যারা এই ধরনের কমেন্ট করছেন তাদের প্রোফাইল পিকচারে কারুর রাম সীতা,কারুর শিব স্বয়ং। কিন্তু তাদের দাবী দেবলীনাকে রেপ করা হোক, বা দেবলীনাকে ঘিরে যথেচ্ছ খিস্তি বা দেবলীনার জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে কিছু নোংরা আলোচনা।”

এর পাশাপাশি নিরাপত্তার অভাববোধ থেকেই মহিলা কমিশন ও পুলিশের সাহায্য নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে। শুধু যে তাঁর স্ত্রীকেই নোংরা মন্তব্য করা হয়েছে এমন নয়, তথাগতের মাকেও নোংরা ভাষায় আক্রমণ করেছেন অভিযুক্ত বিজেপির কর্মীরা।

আরও পড়ুন: সায়নীর বিরুদ্ধে এফআইআর করলেন তথাগত রায়, টুইট-যুদ্ধের জের গড়াল পুলিশের দুয়ারে 

তথাগত প্রশ্ন তুলেছেন, “মতবিরোধে যদি রেপ থ্রেট, খুনের হূমকি আর অশ্লীল গালিগালাজ হয়, কিছু সম্ভাবনাময় রেপিস্ট এবং এন্টি সোশালদের মদত দেওয়া হয় তবে আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে আটকাব। রেপ, খুন, অশ্লীলতা সবটা। আমরা যেমনটা আছি তেমনটাই ভাল, রেপ আর খুনের ভাল থাকাটা আমরা চাই না। দেশের ধারণা শুরু হয় বাড়ি থেকে, নিজের মায়ের সম্মান রাখতে না পারলে দেশ নামক মায়ের সম্মান রাখব কীভাবে?”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More