ত্রিশঙ্কু হলে তৃণমূলকে সমর্থনের প্রশ্নই নেই, বাংলায় মমতা মানেই বিজেপি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু দশক পর বাংলার ভোটে এ বার ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আর সেই কাল্পনিক পরিস্থিতির কথা ভেবে এ প্রশ্নও উঠছে যে সত্যিই তেমন হলে কাকে সমর্থন করবে কংগ্রেস, কাকেই বা বামেরা।
দু’দিন আগে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছিলেন, তৃণমূলকে সমর্থনের প্রশ্নই ওঠে না। শুক্রবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এক কদম এগিয়ে আরও কড়া কথা বললেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই বিজেপি। যদি জিজ্ঞেস করেন কেন? কারণ মমতাই বাংলায় বিজেপিকে এনেছেন। আর দুই এখন মমতাই বলছেন, গদ্দাররা বিজেপিতে চলে যাবেন। মানে তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যে কারা কারা বিজেপিতে যেতে পারেন তার ম্যাপিংও করে রেখেছেন উনি।”

কদিন আগেও এ ধরনের প্রশ্নের একবার জবাব দিয়েছিলেন অধীরবাবু। সেদিন তিনি বলেছিলেন, আমরা ভোটে লড়ছি সরকার গঠনের জন্য। তবে হ্যাঁ রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা। কে বলতে পারে ভোটের পর মমতা নিজে বাঁচার জন্য সংযুক্ত মোর্চাকে আঁকড়ে ধরতে চাইবেন না! অধীরবাবুর সে কথা নিয়ে অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যা করেন। কেউ কেউ বলেন, সম্ভাবনার খেলা বলে দরজা খোলা রাখলেন অধীর চৌধুরী।

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, কথার অপব্যাখ্যা যাঁরা করবেন তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতাই সংকটে পড়বে। আমার কিছু হবে না। আমার অবস্থান পরিষ্কার। তা হল, আমরা বাংলায় সরকার গঠনের জন্যই জোট গড়ে ভোট লড়ছি। সংযুক্ত মোর্চা বাংলার রাজনীতিকে আন্দোলিত করে তুলেছে। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষ বুঝতে পারছে, দুটো পার্টি বাংলায় ধর্ম ধর্ম খেলছে। কিৎ কিৎ খেলার মতো। আর খেলা হবে খেলা হবে বলে এরা দুজনে ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে লড়াই লাগিয়ে দিতে চাইছে। এ বলছে মুসলিমরা এক জোট হও, ও বলছে আমি যদি হিন্দুদের একজোট হতে বলি? যার মানে এই দুই পার্টিই একটা জোট। তারাই বাংলায় বিভাজনের মুখ। মানুষ সেটা বুঝতে পেরেই ওদের প্রতি বিমুখ হচ্ছেন।”

তাঁর কথায়, সেদিন যেটা বলতে চেয়েছিলাম, তা হল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁকে অস্তিত্ব বাঁচাতে একদিন কংগ্রেসের পায়েই পড়তে হবে। এটাই ভবিতব্য, এটাই নিয়তি। নইলে দেখছেন না, নন্দীগ্রামে ভোটের আগের দিন সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখতে হচ্ছে। কংগ্রেস সভানেত্রী কিন্তু মমতাকে চিঠি লেখেননি। কারণ, সনিয়া গান্ধীও দেখেছেন এবং ঠেকে বুঝেছেন বাংলায় পরিবর্তনের লড়াইয়ে যাঁর পাশে ছিলেন তিনি, সেই মহিলাকে তাঁকে ধোঁকা দিয়েছেন। একবার নয়, বার বার। সুতরাং মানুষকে বলব ত্রিশঙ্কুর জল্পনায় ডুবে না থেকে, সংযুক্ত মোর্চাকে ভোট দিন। যাতে বাংলায় প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তি সরকার গঠন করতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More