নির্বাচন কমিশনকে চিঠি অধীরের, মুর্শিদাবাদে রমজানের পর ভোট হোক, বড় জনসভা বাতিলের সিদ্ধান্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ে পরিযায়ী বা ভিন রাজ্যে থাকা শ্রমিক ও ছাত্রছাত্রীদের বাংলায় ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। সেই তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্রকে চিঠি লিখে অনুরোধ করলেন মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোট যেন রমজান মাসের পর হয়। কারণ, আশা করা যায় যে ততদিনে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ লঘু হয়ে যাবে। 

কোভিডের কারণে কদিন আগে মুর্শিদাবাদ জেলায় এক জন কংগ্রেস ও এক জন বাম প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২২ টি আসনের মধ্যে তাই ২০ টি আসনে ভোট হবে।

অধীরবাবুর বক্তব্য, যে ভাবে দেশজুড়ে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তা থেকে বাংলাও নিজেকে বাঁচাতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে কোভিড মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। মানুষের জীবন বাঁচলে ভোট ঠিক করানো যাবে।

অধীরবাবুর এই আর্জি কমিশন বিবেচনা করবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই। কারণ, কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ভোটের নির্ঘণ্ট বদলের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে না। বরং কমিশন যে সব সতর্কতা রাজনৈতিক দলগুলিকে নিতে বলেছে তা মেনে চললেই কোভিড নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করে অধীর চৌধুরী সোমবারই বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলায় কংগ্রেসের কোনও তারকা প্রার্থী আর বড় জনসভা করবেন না। অর্থাৎ তিনি নিজেও আর বড় জনসভা করবেন না।

অনেকের মতে, অধীর চৌধুরীর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। মুর্শিদাবাদে ভোট বাকি। এবং মুর্শিদাবাদই হল অধীরবাবুর দুর্গ। সেখানে তিনি বড় জনসভা না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে সাহসিকতার প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন ব্লক থেকে তাঁর কাছে ফোন আসা শুরুও হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ আবার মনে করছেন, অধীরবাবু বড় জনসভা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল চাপে ফেলে দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও প্রচারে যাননি। বিজেপির কোনও বড় নেতাও প্রচারে যাননি। তাঁরা এ বার সেখানে প্রচার করতে গেলে কংগ্রেস বলতে পারবে, মানুষের জীবন বিপন্ন করে সভা হচ্ছে। সাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টির কথা বিবেচনা না করে রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বস্তুত কোভিডের কারণে বড় জনসভা না করার ব্যাপারে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সংযুক্ত মোর্চার নেতারাই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলেছিলেন, পাচ্ছে না তাই খাচ্ছে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বড় সভা বাতিলের কথা বলতে হচ্ছে বিজেপি-তৃণমূলকেও। সোমবার মাত্র ১১ মিনিটে কালিয়াগঞ্জের সভা শেষ করেন মমতা। পরে বিকেলে বিজেপিও জানিয়েছে, তাঁরা আর বড় সভা বিশেষ করবেন না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More