প্রসব যন্ত্রণা ভেবে হাসপাতালে ভর্তি, অপারেশনের পর মহিলার পেট থেকে বের হল দেড় কেজির টিউমার!

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ক্যানিং: রাস্তায় পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। তাঁকে দেখে গর্ভবর্তী বলে মনে হয়ে ছিল, তাই রাস্তা থেকে তুলে সেই মহিলাকে প্রসবের জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসছিলেন এক আশাকর্মী। কিন্তু তাঁকে পরীক্ষা করতেই তাজ্জব হয়ে গেলেন চিকিৎসকরা। ইউএসজি করতে দেখা গেল বাচ্চা নয়, পেটে রয়েছে বিশাল আকারের টিউমার। পরে নিজেদের দায়িত্বে ওই মহিলার অপারেশন করলেন হাসপাতালের চিকিৎসকরাই। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাসন্তীর ঝড়খালি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বারান্দায় পেটের অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করছিলেন সুনিতা কর নামে ওই মহিলা। তখনই সেখান থেকেই যাচ্ছিলেন একজন আশাকর্মী। ওই মহিলাকে কাতরাতে দেখে উদ্যোগী হন আশাকর্মী। তাই নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে পৌঁছে দেন বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে। বাসন্তী হাসপাতালে তাঁকে কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই পাঠিয়ে দেয় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে।

ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রথমে ইউরিন টেস্ট করে দেখেন, যে গর্ভে কোন সন্তানের কোন লক্ষণই নেই। কিন্তু পেট যথেষ্ট ফুলে রয়েছে। এর পর ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা ইউএসজি করার ব্যবস্থা করেন। ইউএসজি করে দেখা যায়, পেটের মধ্যে একটি বিরাট আকারের টিউমার ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে।

অবশেষে শনিবার চিকিৎসকরা সেই টিউমারটি অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি টিউমার বের করা হয়েছে সুনিতার ডান ওভারি থেকে। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক সুতোরশি মন্ডল অস্ত্রোপচার করেন। সঙ্গে ছিলেন অন্য দুই চিকিৎসক বিশ্বনাথ সরদার ও সুরেশ সরদার। পুরো কাজটি তদারকি করেন ক্যানিং মহাকুমার হাসপাতাল সুপার অপূর্ব লাল সরকার। তিনিই স্বয়ং বন্ডে সই করেন।

ঘটনাটি নিয়ে অপূর্ববাবু জানিয়েছেন, ” মহিলাটির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই মহিলাটিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তাঁর পরিবারের লোকজন। শুধু তাই নয়, কিছুটা অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় রয়েছেন ওই মহিলা। পেটে যন্ত্রণা নিয়ে যেভাবে ছটফট করছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল গর্ভের মধ্যে কোন সন্তান রয়েছে। কিন্তু পরে দেখা যায় বড় আকারের টিউমার। অপারেশন করে টিউমারটি বের করা হয়েছে। অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এখন সুস্থ রয়েছেন। কিন্তু পরিবারের কেউ না থাকায় সমস্ত দায়িত্ব নার্স ও চিকিৎসকরা নিয়েছেন।”

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More