স্টেশন থেকে উদ্ধার হয়ে নতুন জীবনে বৃদ্ধ, স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্যে ফিরছেন বাড়িতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ছায়া তট’ এর যত্ন ও সহযোগীতায় নতুন জীবন পেলেন কোচবিহারের বাসিন্দা গৌরচন্দ্র কুণ্ডু। সত্তর উর্ধ্ব বৃদ্ধকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং ১ ব্লকের দক্ষিণ তালদির এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

গত ২৫ ডিসেম্বর দুপুরের এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থেকে ছিল ঘুঁটিয়ারি শরীফ স্টেশন। স্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মে এক বৃদ্ধ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় যন্ত্রণায় কাতরতে কাতরাতে চিৎকার করছিলেন। অথচ করোনা সংক্রমণের ভয়ে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাননি। খবর পেয়ে স্থানীয় দক্ষিণ তালদি এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ছায়া তট’ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। করোনা সংক্রমণ ভয় উপেক্ষা করে অসহায় বৃদ্ধকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করেন তাঁরা।

প্রথমে বৃদ্ধকে স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে শুশ্রুষা করান। দীর্ঘ প্রায় একমাস চিকিৎসার পর ওই বৃদ্ধ ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন। কথাও বলেন। পরে তাঁর নাম ঠিকানা জানতে পারে ‘ছায়াতট’। বৃদ্ধের নাম গৌর চন্দ্র কুন্ডু। সুদূর কোচবিহার জেলার পুন্ডিবাড়ির মরিচবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

ছায়াতট পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে বৃদ্ধের স্ত্রী মারা যান। দুই মেয়েকে বিয়েও দিয়ে দেন। বর্তমানে বৃদ্ধ একাই থাকতেন। কখনও বা মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। বার্ধক্যজনিত কারণে মেয়েদের বাড়িতে গেলে সেভাবে দেখাশোনা করতেন মেয়েরা। তাই অগত্যা ২০২০র নভেম্বর মাসে বৃদ্ধ অবসাদ ও যন্ত্রণা নিয়ে কোচবিহার থেকে বেরিয়ে পড়েন। এখানে-ওখানে ফুটপাথে দিন কাটানোর পর ২৫ ডিসেম্বর মৃতপ্রায় অবস্থায় ঘুঁটিয়ারি শরীফ স্টেশনে চলে আসেন।

বৃদ্ধ গৌরচন্দ্র কুণ্ডু জানিয়েছেন, ছায়াতটের সদস্য রাম দেবনাথ, সৌমেন মন্ডল, বিশ্বজিৎ বায়েন, সুজিত নস্কর, সংগ্রামজিৎ বিশ্বাস সহ অন্যান্যরা পিতৃস্নেহে তাঁকে সেবা-শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলেন। এরমধ্যে মাসে বৃদ্ধকে তাঁরা কোচবিহার জেলার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

ছায়াতটের সভাপতি রাম দেবনাথ জানিয়েছেন, ‘আমরা ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অন্নবস্ত্র এবং বাসস্থান নিয়ে স্বেচ্ছামূলক কাজ শুরু করি। সেই পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি এমন সব অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সেই প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি’।

বৃদ্ধ গৌরচন্দ্র কুণ্ডু জানিয়েছেন, ”ছায়াতটের ছেলের আমাকে পিতৃতুল্যভাবে সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তুলছেন। ওঁদের কোন তুলনা হয়না। রাম ভগবানের নাম। আর আমাকে সেই ভগবানের দূত রাম দেবনাথ ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গোদের কাছে না পাঠালে অনেকদিন আগেই হয়তো রাস্তার কোনও এক ফুটপাথে মারা যেতাম। ওদের দয়ায় বাড়িতে ফিরতে পারবো। আজ আমি খুব খুশি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More