এক সপ্তাহেরও বেশি বিতর্কিত প্রচারপর্বের পরে মঙ্গলবার হায়দরাবাদের পুরভোট শুরু

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ভোট শুরু হয়েছে। ভোটারের সংখ্যা ৭৪ লক্ষ। এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছে তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি এবং আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম। এছাড়া দক্ষিণের এই রাজ্যে ভোটে ভাল ফল করার চেষ্টা করছে বিজেপিও। সাম্প্রতিক অতীতে এই ভোটকে ঘিরেই সবচেয়ে তিক্ত প্রচারযুদ্ধ হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় নেতাদের মধ্যে অমিত শাহ, জে পি নড্ডা এবং যোগী আদিত্যনাথ হায়দারাবাদে এসে প্রচার করেছেন।

পুরভোটে সাধারণত রাস্তাঘাট, শহরের পরিচ্ছন্নতা, জল সরবরাহ, ল্যাম্পপোস্টের আলো, নিকাশী ব্যবস্থা ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের প্রসঙ্গ ওঠে। কিন্তু হায়দরাবাদের ভোটে উঠেছে অন্য ইস্যু। প্রচারে বলা হয়েছে, আগামী দিনে হায়দরাবাদের নাম পাল্টে করা হবে ভাগ্যনগর। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তেলঙ্গানায় কি নতুন কোনও দলের ক্ষমতায় আসা উচিত? বিজেপি নেতা তথা বেঙ্গালুরু সাউথের সাংসদ তেজস্বী সূর্য বিভেদকামী মন্তব্য করেছেন। অভিযোগ, তিনি বিনা অনুমতিতে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচার করতে ঢুকেছিলেন।

এদিন ভোট হবে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত। সকালেই যাঁরা ভোট দিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন ওয়াইসি ও তেলঙ্গানার মন্ত্রী কে টি রামারাও। পুরভোটে লড়াই করছেন ১১২২ জন। ১৫০ টি ডিভিশনে ভোট হচ্ছে। এর আগে পুরভোট হয়েছিল ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন টিআরএস পেয়েছিল ৯৯ টি আসন। ওয়াইসির এআইএমআইএম পেয়েছিল ৪৪ টি, বিজেপি পেয়েছিল চারটি, কংগ্রেস দু’টি এবং তেলুগু দেশম পার্টি একটি।

গত এক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে, বিধাসভার তুলনায় পুরভোটে ভোটদাতারা ভোট দিয়েছেন কম সংখ্যায়। ২০০৯ সালে হায়দরাবাদে পুরভোটে ভোট পড়েছিল ৪৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছে ৪৬ শতাংশ।

এদিন হায়দরাবাদে ভোট উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরে রয়েছে ৯১০১ টি পোলিং বুথ। ইতিমধ্যে নানা জায়গায় ভোটারদের টাকা ও মদ বিলির অভিযোগ উঠছে। শহরে মোতায়েন আছে ৫০ হাজারের বেশি পুলিশ। রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার সি পার্থসারথী বলেন, কোভিড সংক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পোলিং বুথকে স্যানিটাইজার ছড়িয়ে ডিসইনফেক্ট করা হয়েছে।

গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে আছে ৬৩ টি কনটেনমেন্ট জোন। প্রতিটি বুথে ৮০০ থেকে হাজার জন ভোট দিচ্ছেন। আগে প্রতি বুথে দিতেন ১৪০০ জন। ইভিএমের বদলে ভোট হচ্ছে ব্যালট পেপারে। তবে অনলাইনে ভোট দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু পোস্টাল ব্যালটে অনেকে ভোট দিয়েছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More