বিহারে পরাজয়ের পরে কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্ব, বিক্ষুব্ধদের তিনটি কমিটিতে রাখলেন সনিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত অগাস্ট মাসে কংগ্রেসের প্রথম সারির ২৩ জন নেতা নেতৃত্বের পরিবর্তন চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। বিহারে বিধানসভা নির্বাচন ও কয়েকটি রাজ্যে উপনির্বাচনে খারাপ ফলের পরে ফের সরব হন বিক্ষুব্ধরা। শুক্রবার কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী যান গোয়ায়। তার আগে তিনি দলে তিনটি কমিটির কথা ঘোষণা করেন। কমিটিগুলি সভানেত্রীকে জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশের নানা ঘটনা ও অর্থনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাখবে। যে নেতারা হাইকম্যান্ডের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন, তাঁদের চারজনকে সনিয়া তিনটি কমিটিতে স্থান দিয়েছেন।

অর্থনীতি বিষয়ক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। বিদেশ সংক্রান্ত কমিটিতে আছেন আনন্দ শর্মা ও শশী তারুর। তৃতীয় কমিটিতে আছেন গুলাম নবি আজাদ ও বীরাপ্পা মইলি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তিনটি কমিটিতেই আছেন।

বিহারে ভোটের আগে আসন বাছাই ও সাংগঠনিক দুর্বলতা, এই দু’টি বিষয় নিয়ে বুধবার মুখ খোলেন চিদম্বরম। একটি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিহারে কংগ্রেসের আরও বেশি আসনে লড়াই করা উচিত ছিল। তাঁর মতে, বিহারের ভোট প্রমাণ করেছে, সিপিআই এম এল বা এআইএমআইএমের মতো ছোট দলও তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তুলতে পারে। তাই তারা ভোটে ভাল ফল করেছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি জোট যতগুলি আসন পেয়েছে, বিরোধীরাও ততগুলিই পেতে পারত। কিন্তু সেজন্য তাদের তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তুলতে হত।”

বিহারের ভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, “কংগ্রেসকে মাত্র ২৫ টি আসন দেওয়া হয়েছিল। ওই আসনগুলিতে বিজেপি এবং তার শরিকরা গত ২০ বছর ধরে জিতে আসছে। কংগ্রেসের উচিত ছিল ওই আসনগুলি থেকে লড়তে অস্বীকার করা। আমাদের অন্তত ৪৫ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত ছিল।”

গত সোমবার কপিল সিব্বল বলেন, এখন দলের সংগঠনকে চাঙ্গা করে তুলতে হবে। যাঁরা অভিজ্ঞ, রাজনীতি বোঝেন, তাঁরা এই কাজ করবেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আর ভাবার সময় নেই।”

তাঁর কথায়, “অবিলম্বে কয়েকটি স্তরে কিছু কিছু কাজ করতে হবে। সাংগঠনিক কাজ করতে হবে। আরও নানা স্তরে কাজ করতে হবে। আমাদের চাই সক্রিয় ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব। সবদিক ভেবে কাজে হাত দিতে হবে।” একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কংগ্রেস কর্মীদের বুঝতে হবে, আমাদের দলের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।”

এক সাক্ষাৎকারে সিব্বল বলেন, “দলের অভ্যন্তরে আলোচনার কোনও জায়গা নেই। তাই আমি প্রকাশ্যে মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছি। আমি একজন কংগ্রেসম্যান। বর্তমানে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা দেশের সব মূল্যবোধকে ধ্বংস করছেন। আমি প্রার্থনা করি, কংগ্রেস যেন মানুষের কাছে বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।”

গত অগাস্ট মাসে সিব্বল বলেন, তাঁরা যে চিঠিটি দিয়েছিলেন, কেউ যদি সেটি দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন, সেখানে গান্ধী পরিবার বা কাউকে অসম্মান করার জন্য কিছু লেখা হয়নি। বরং এতদিন ধরে যেভাবে তাঁরা কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারই প্রশংসা করা হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More