মোদীর সঙ্গে কথা বলতে পারলেন না উদ্ধব, তাঁকে আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার শোনা যায়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যে অক্সিজেনের সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কথা বলার সুযোগ পাননি। একথা জানাজানি হওয়ার পরে উদ্ধবের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষবর্ধন। পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন টুইট করে বলেন, তিনি উদ্ধব ঠাকরেকে আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের নিয়মিত অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠাবে। সেই সঙ্গে পাঠাবে ১১২১ টি ভেন্টিলেটর।

একইসঙ্গে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সংকীর্ণ রাজনীতি’ করার অভিযোগ এনেছেন। মহারাষ্ট্র সরকারকে তিনি বলেছেন অপদার্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় রেলমন্ত্রী লিখেছেন, মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কথা বলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। উদ্ধব ঠাকরে যেভাবে সংকীর্ণ রাজনীতি করছেন, তা দুঃখজনক।

উদ্ধব ঠাকরে মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ফোন করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তখন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গে। তিনি বিধানসভা ভোটের জন্য প্রচার করছিলেন। গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও তামিলনাড়ুতে অনেকগুলি নির্বাচনী জনসভা করেছেন মোদী। অভিযোগ, ওই সভাগুলিতে কোভিড বিধি মেনে চলা হয়নি।

শনিবার ফের দেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে করোনা সংক্রমণের রেকর্ড। একদিনে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৯২ জন। বর্তমানে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৪৫ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।

অতিমহামারীর মোকাবিলা করার জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে চালু হয়েছে নাইট কার্ফু। কড়াকড়ি করা হচ্ছে রেলেও। ভারতীয় রেল বিধির তালিকাতেই এখন থেকে মাস্ক পরা এবং অন্যথায় জরিমানার নিয়মটিও যুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে। শুধু মাস্ক নয়, রেল চত্বরে থুতু ফেলাতেও এবার জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। রেলের তরফে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “করোনা আবহে যেখানে সেখানে থুতু ফেলা বা অনুরূপ কোনও প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয় যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।”

গত কয়েকদিন ধরে কুম্ভমেলা উপলক্ষে হাজার হাজার পুণ্যার্থী জড়ো হয়েছেন হরিদ্বারে। ওই জমায়েত থেকে করোনা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ফোনে কথা বলেন জুনা আখড়ার স্বামী অবদেশানন্দ গিরির সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী আবেদন জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কুম্ভমেলা হোক প্রতীকি। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই স্বামী অবদেশানন্দ ঘোষণা করলেন, তাঁদের আখড়া কুম্ভমেলা শেষ করল।

স্বামী অবদেশানন্দ হিন্দিতে টুইট করে বলেন, “মানুষের জীবন বাঁচানোই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। করোনাভাইরাস অতিমহামারীর মধ্যে আমরা সব দেবতার বিসর্জন দিয়েছি। জুনা আখড়ার তরফে কুম্ভ শেষ হল।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More