আন্দোলন, সংঘর্ষ, হিংসায় উত্তাল প্রজাতন্ত্র দিবস, শেষমেশ স্থগিত ট্র্যাক্টর ব়্যালি, দেখে নিন ১০ পয়েন্টে

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  ট্র্যাক্টর আন্দোলন স্থগিত করেছে কৃষক সংগঠনগুলি। ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির বুকে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় কার্যত। শেষমেশ মোতায়েন হয়েছে আধাসেনা। গতকাল আন্দোলন চলার সময়ে মিছিল করতে করতে লালকেল্লায় ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। তারা সেখানে কৃষক সংগঠনের পতাকা তোলে। লালকেল্লার ভিতরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। যদিও বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে লালকেল্লা থেকে বিক্ষোভকারীদের বের করেছে পুলিশ। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “আজ কৃষকদের প্রজাতন্ত্র দিবসের মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। সেইসঙ্গে আজকের মিছিলে যে অবাঞ্ছিত ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা করছি আমরা। এর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই আর।”

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বিকেলের পর থেকে কোন পথে মোড় ঘুরল আন্দোলনের।
  • ১. আন্দোলনের সুর চড়তে শুরু করলে, চরম বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের পথে এগোলে জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা ও দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস এন শ্রীবাস্তব। বৈঠকের পরেই দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় কড়া সতর্কতা জারি হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। এর পরেই দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে আধাসেনা।
  • ২. এদিনের ট্র্যাক্টর ব়্যালি সম্পর্কে দিল্লি পুলিশ জানত এবং তারা একটা নির্দিষ্ট রুটে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব়্যালির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ব়্যালি শুরু হওয়ার পরেই পথ ভেঙে যায়। কিষাণ মজদুর সংঘ একটি পথে ব়্যালি করতে অস্বীকার করে। সকাল আটটার মধ্যেই পায়ে হেঁটে দিল্লির কেন্দ্রে ঢুকে পড়েন কয়েক হাজার কৃষক। সিংঘু বর্ডারে ব্যারিকেড ভেঙে দেন আন্দোলনকারীরা।
  • সেন্ট্রাল দিল্লির পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় আন্দোলনের আঁচ। এসবের মধ্যেই একটি ট্র্যাক্টরের তলায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয় এক কৃষকের। অক্ষরধাম এলাকার কাছে পুলিশ ও কৃষকদের সরাসরি সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, ভাঙচুর করা হয় একটি বাস। শেষমেশ টিয়ারগ্যাস চালায় পুলিশ। বন্ধ করে দেওয়া হয় দিল্লি মেট্রো।
  • ৪. আন্দোলনের ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, লালকেল্লার চুড়োয় চেপে জাতীয় পতাকার পাশে নিজেদের খালসা নিশান ওড়ানোর চেষ্টা করছেন শিখ আন্দোলনকারীরা। কয়েক বার চেষ্টার পরে সফলও হন তাঁরা। লালকেল্লা চত্বর ফেটে পড়ে উন্মাদনা ও বিশৃঙ্খলায়। এর পরেই পুলিশ লালকেল্লা থেকে আন্দোলনকারীদের বার করার চেষ্টা শুরু করে।
  • ৫. আন্দোলনকারীর জানিয়ে দেন, “আমরা এখানে এসেছিলাম মোদী সরকারকে একটি বার্তা দিতে। আমাদের কাজ হয়ে গেছে। আমরা এবার ফিরে যাব। আমরা লালকেল্লা অবধি পৌঁছেছি, আমাদের নিশান উড়িয়েছি। আমাদের লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামব না। তিনটি কৃষিবিল প্রত্যাহার করতেই হবে।”
  • ৬. ইতিমধ্যেই পুলিশ অন্তত চারটি মামলা রুজু করেছে দিল্লির এই সংঘর্ষ ঘিরে। জানা গেছে, অন্তত আটটি বাস ভাঙচুর হয়েছে। ১৭টি গাড়িও ভাঙচুর হয়েছে। অভিযোগ, আন্দোলনের নির্দিষ্ট রুট ঠিক করে দেওয়া সত্ত্বেও ট্র্যাক্টর মিছিল করতে করতে বিভিন্ন দিকে চলে যান কৃষকরা। দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস এন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, অন্তত ৮৩ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।
  • ৭. কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে সামনের সারিতে থাকা সংযুক্ত কৃষক মোর্চার তরফে শেষমেশ আন্দোলন স্থগিতের বার্তা দেওয়া হয়। সকলকে বলা হয় দিল্লির সীমান্ত থেকে বেরিয়ে যেতে। তারা দাবি করে, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্যই ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু অসামাজিক লোক ঢুকে পড়েছিল। এবার আরও দীর্ঘ ও কঠিন হবে আন্দোলন, জানিয়ে দিয়েছে তারা।
  • ৮. একটি বিবৃতি দিয়ে কৃষক মোর্চার তরফে জানানো হয়, “যারা শৃঙ্খলা ভেঙে এইসব কাজ করেছে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছি আমরা। আমরা সবার কাছে আবেদন জানাচ্ছি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা মেনে চলতে। দেশের ঐক্য ও সম্মান নষ্ট হয় এই ধরনের কোনও কাজে যুক্ত না হতে। আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আবেদন করছি। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া আমাদের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়েছে।”
  • ৯. সুপ্রিম কোর্টে এই ট্র্যাক্টর মিছিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে কেন্দ্র। তারা সওয়াল করেছে, “এটি দেশের জন্য একটা লজ্জা।” আদালতের তরফে এই বিষয়টি দেখার জন্য দিল্লি পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, প্রসঙ্গত, এর আগেও আন্দোলনকারী কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, বলেছিল প্রতিবাদের অধিকার তাঁদের আছে।
  • ১০. গতকালের আন্দোলনের আগে পর্যন্ত ১১ দফায় আলোচনা হয়েছে সরকার পক্ষের সঙ্গে কৃষক পক্ষের। এখনও কোনও সমাধান বেরিয়ে আসেনি। কৃষকদের নানা দাবিদাওয়া নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেছে সরকার, কিন্তু রাজি হয়নি কৃষিবিল প্রত্যাহারে। আবার কৃষকদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এক ও একমাত্র কৃষিবিল প্রত্যাহার করা ছাড়া সরকারের তরফে কোনও রকম কোনও সাহায্য তাদের দরকার নেই।
You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More