বিজেপির সুরেই কথা বলছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি, সোনা স্মাগলিং মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পরে বললেন বিজয়ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবারই কেরল হাইকোর্টে শুল্ক দফতর হলফনামা দিয়ে বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও আরও কয়েকজন মন্ত্রী জানতেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে সোনা স্মাগলিং করা হচ্ছে। শনিবার বিজয়ন বললেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কেরলে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে।

আগামী ৬ এপ্রিল বিধানসভা ভোট হবে কেরলে। এদিন নির্বাচনী জনসভায় বিজয়ন বলেন, “আমাদের জীবন খোলা বইয়ের মতো। বিজেপি এবং যে সংস্থাগুলি ওই দলের কথায় চলে, আমরা তাদের মতো নই।” শুল্ক দফতরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “কাস্টমস কমিশনারের লক্ষ্য ছিল রাজ্য সরকারকে অপমান করা। নির্বাচনের আগে তারা এই কাজটি করতে চায়।” পরে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি এখন আরও তীব্রভাবে আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। কাস্টমসের কমিশনার নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি কেরলের মন্ত্রী ও স্পিকারকে অপমান করতে চান।”

বিজয়নের বক্তব্য, “কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজনৈতিক বিবৃতি দিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হল বিজেপির সুবিধা করে দেওয়া।” একইসঙ্গে কংগ্রেসকে দোষারোপ করে তিনি বলেন, “বিজেপি ও কংগ্রেস চায় না রাজ্যে অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন হোক।” কেরলের মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নির্দেশে ভোটের আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

গতবছর জুলাই মাসে তিরুঅনন্তপুর বিমানবন্দরে ৩০ কেজি সোনা সহ এক ব্যক্তিকে আটক করে শুল্ক দফতর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে চোরাপথে ওই সোনা আনা হচ্ছিল। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত স্বপ্না সুরেশ জানান, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এম শিবশংকর ওই স্মাগলিং চক্রে জড়িত ছিলেন। তিনিই স্মাগলিং সিন্ডিকেটের হয়ে রাজনীতিক ও কনস্যুলেট কর্মীদের যোগাযোগ রাখতেন।

স্বপ্না সুরেশ জানান, তিনি আরবী ভাষা শিখেছিলেন। স্মাগলারদের সঙ্গে যখন রাজনীতিকরা বৈঠকে বসতেন, তাঁকে দোভাষীর কাজ করতে হত। কাস্টমসের কর্তা সুমিত কুমার এদিন হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেন, “স্বপ্না সুরেশ খোলাখুলি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে ও তাঁর তিন মন্ত্রী বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন।” বিজয়নের দল সিপিএম স্থির করেছে, শনিবার কাস্টমস অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাবে। তাদের অভিযোগ, কেরল সরকারের বদনাম করার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বপ্না সুরেশ যে তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁদের অন্যতম কে টি জলিল বলেন, “এক অভিযুক্তের বিবৃতির ওপরে ভিত্তি করে কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না।”

রাজ্যে বিরোধী কংগ্রেস ও বিজেপি অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। বিরোধী নেতা রমেশ চেন্নিথালা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর আর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। তিনি আমাদের রাজ্যকে লজ্জায় ফেলেছেন।” রাজ্য বিজেপির সভাপতি কে সুদর্শন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা যে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। বিজয়নের আর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকা উচিত নয়।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More