পুলিশকর্তার চিঠির জেরে কি সরবেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? বিকালে বৈঠকে শরদ পাওয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং চিঠি লিখে অভিযোগ করেছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ তোলাবাজ চক্র চালান। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে চেয়েছিলেন, এই অভিযোগ ওঠের পরে অনিল দেশমুখ পদত্যাগ করুন। অন্যদিকে অনিল দেশমুখ নিজে যে পার্টির সদস্য, সেই এনসিপি-র সর্বোচ্চ নেতা শরদ পাওয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রে শাসক শিবসেনা-এনসিপি জোটের মধ্যে তৈরি হয়েছে টেনশন।
সোমবার বিকালে এনসিপি নেতারা বৈঠকে বসে স্থির করবেন, অনিল দেশমুখ মন্ত্রী থাকবেন না সরবেন। তার আগে সকালে দুই শরিকের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছেন উদ্ধব। তিনি বলেছেন, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের অভিযোগ নিয়ে যদি তদন্ত হয়, তাহলে এখনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করার দরকার নেই।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিকাল সাড়ে চারটেয় রাজ্যের আইন ও বিচার মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। অন্যদিকে শরদ পাওয়ার এদিন দিল্লিতে এনসিপি-র শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ডেকেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং এনসিপির মহারাষ্ট্রের প্রধান জয়ন্ত পাতিল।
পরমবীর সিংকে সরিয়ে দেওয়ার পরে অনিল দেশমুখ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে মুম্বইয়ের পুলিশ প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তদন্তে দেখা গিয়েছে, তিনি কয়েকটি ‘ক্ষমার অযোগ্য’ অপরাধ করেছেন। পরমবীর সিং মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, অনিল দেশমুখ তোলাবাজ। তিনি পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করেন।
মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অফিসার তোলা নেন। তাঁরা একটি তোলাবাজ চক্র চালান। বিভিন্ন হোটেল, পাব ও বার থেকে তোলা নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠ অফিসারদের বলে দিয়েছেন, প্রতি মাসে অন্তত ১০০ কোটি টাকা তুলতে হবে।”
পরমবীর সিং দাবি করেন, বেশ কয়েকটি মামলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, কীভাবে চার্জশিট ফাইল করতে হবে। পুলিশের মধ্যে যাঁরা অপরাধী তাঁদের বাঁচানোর জন্যই তাঁকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি ‘ক্ষমার অযোগ্য’ কোনও অপরাধ করেননি।
প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ অফিসারদের মধ্যে ছিলেন সঞ্জয় ওয়াজে। তিনি এখন এনআইএ-র হেফাজতে রয়েছেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ধনকুবের মুকেশ আম্বানির বাড়ির অল্প দূরে একটি বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি পাওয়া যায়। ওই গাড়ির মালিকের নাম ছিল মনসুখ হিরানি। তিনি পুলিশে অভিযোগ করেছিলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি গাড়িটি চুরি হয়েছিল। ৫ মার্চ থানের একটি খালে তাঁর দেহ ভাসতে দেখা যায়। হিরানির স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে খুন করা হয়েছে। মুম্বই পুলিশের কর্মী সঞ্জয় ওয়াজে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ওই মামলার জেরে বদলি হয়েছিলেন পরমবীর সিং।
তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করে অনিল দেশমুখ বলেন, মুকেশ আম্বানির বাড়ির কাছে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রাখার ঘটনায় যে সঞ্জয় ওয়াজে জড়িত ছিলেন তা এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। পরমবীর সিং-এর বিরুদ্ধেও তদন্ত হচ্ছে। নিজেকে বাঁচানোর জন্যই প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত তাঁকে সরিয়ে দেওয়া।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More