রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

লখনউ বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে ‘আটক’ অখিলেশ, বিজেপির নিন্দা করলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকালে লখনউ থেকে প্রয়াগরাজে যাচ্ছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ সিং যাদব। বিকালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের এক অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, তাঁকে লখনউ বিমানবন্দরে আটকে রাখে পুলিশ। এদিন সকালে টুইটারে এই অভিযোগ করেছেন অখিলেশ নিজেই।

সমাজবাদী পার্টির নেতাকে আটকানো নিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি টুইট করেছেন, আমি অখিলেশের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সকলেই বিজেপি নেতাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের নিন্দা করছি। তারা অখিলেশকে ছাত্রদের সভায় যেতে দেয়নি। এমনকী জিগনেশ মেওয়ানিকেও যেতে দেয়নি। আমাদের দেশে কি গণতন্ত্র নেই? তারা তো সোয়াইন ফ্লু নিয়েই বাংলায় এসে প্রোগ্রাম করে যাচ্ছে। আমরা তাদের অ্যালাউ করছি। আর দেখুন এদের নিজেদের রাজ্যে পুলিশ কোনও তদন্ত করলে খুন হয়ে যাচ্ছে। আরএসএস-এর লোকেরা  বিজেপির সঙ্গে মিশে খুন খারাপের রাজনীতি করছে।

 

 

লখনউ বিমানবন্দর থেকে টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেছেন অখিলেশ। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্লেনের সিঁড়িতে এক পুলিশকর্মী দাঁড়িয়ে আছেন। প্লেনে ঢোকার রাস্তা বন্ধ। অপর একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অখিলেশ ট্যারম্যাকে দাঁড়িয়ে এক পুলিশকর্মীর সঙ্গে তর্ক করছেন। অখিলেশের মিডিয়া টিম একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সাদা পোশাক পরা এক ব্যক্তি অখিলেশকে চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকানোর চেষ্টা করছেন। অখিলেশ চিৎকার করছেন, হাত মত লাগাও। পরে এক ব্যক্তি তাঁকে ঠেলে সরিয়ে দিল। একটি সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক অফিসার।

সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র সভা এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ দখল করেছে। ছাত্র সংগঠনের সভাপতি অখিলেশকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। এদিন তাঁর শপথ নেওয়ার কথা ছিল।

অখিলেশকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তিনি বলেন, এক ছাত্রনেতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকেও ভয় পাচ্ছে সরকার। আমি যাতে এলাহাবাদে না যেতে পারি, সেজন্য আমাকে বিমানেই উঠতে দেয়নি। একটি সূত্রে জানা যায়, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোমবারই অখিলেশের ব্যক্তিগত সচিবকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও অনুষ্ঠানে রাজনীতিকদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না।

প্রয়াগরাজ পুলিশ বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অখিলেশকে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকতে অনুমতি দেয়নি। তাদের আশঙ্কা অখিলেশ এখানে এলে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে। পুলিশের কাজই হল আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, সমাজবাদী পার্টি যেন অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা না করে। অখিলেশকে বিমানবন্দরে আটকানোর প্রতিবাদে এদিন বিধানসভায় সরব হন সমাজবাদী পার্টির বিধায়করা। অখিলেশদের জোটসঙ্গী মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি বলেছে, এই ঘটনায় প্রমাণ হয়, উত্তরপ্রদেশ সরকার একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী। মায়াবতী নিজে টুইট করেছেন, সপা-বসপা জোট হওয়ার পরে কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার কি এত ভয় পেয়েছে যে, তাদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য অগণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করছে?

 

 

Shares

Comments are closed.