দিল্লিতে ইজরায়েলের দূতাবাসের বাইরে বিস্ফোরণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ইজরায়েলের দূতাবাসের বাইরে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে। রাজধানীর কেন্দ্রে ওই দূতাবাস অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভেরি লো ইনটেনসিটি অর্থাৎ খুব অল্পমাত্রার বিস্ফোরণ হয়েছিল। তার ফলে দূতাবাসের বাইরে দাঁড়ানো কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এদিন রাত পর্যন্ত জীবন বা সম্পত্তিহানির খবর নেই।

ইজরায়েলের দূতাবাস থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে রাজধানীর বিজয় চৌক এলাকায় এদিন বিটিং রিট্রিট সেরিমনি হয়। সেই উপলক্ষে বিকাল পাঁচটা বেজে ১১ মিনিটে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সুরক্ষিত এলাকার অত কাছে বিস্ফোরণ ঘটায় উদ্বিগ্ন হয়েছে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, প্ল্যাস্টিকের মোড়কের ভিতরে বিস্ফোরক রাখা ছিল। জিন্দাল হাউসের ঠিক বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখান থেকে কয়েক মিটার দূরেই ইজরায়েলের দূতাবাসের গেট।

এ পি জে আবদুল কালাম রোডে ওই দূতাবাস অবস্থিত। পুরো এলাকা এখন কর্ডন করে ফেলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের শীর্ষস্থানীয় অফিসাররা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। সেখান থেকে তোলা ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বিরাট সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে দূতাবাসের বাইরে। রাস্তার দুই প্রান্তে ব্যারিকেড করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের পরে দিল্লির বিমানবন্দর ও অন্যান্য সরকারি ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মুম্বইতে অবস্থিত ইজরায়েলের কনস্যুলেটকেও সতর্ক করা হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছেন। বিস্ফোরণের পিছনে কারা আছে খুঁজে বার করার চেষ্টা হচ্ছে। রাজধানীর স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের কমিশনার ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্তার সঙ্গে রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসেও কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায় দিল্লিতে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২৬ টি মামলা করে দিল্লি পুলিশ। কয়েকজন কৃষক নেতার বিরুদ্ধেও হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, হিংসার জন্য কৃষকরাই দায়ী। অন্যদিকে কৃষক নেতাদের বক্তব্য, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অন্তর্ঘাত করা হয়েছে। বাজেটের দিন সংসদ অভিযানের কর্মসূচিও তাঁরা স্থগিত রেখেছেন।

প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথম যে নেতা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙেছিলেন, তাঁর নাম সতনাম সিং পান্নু। তিনি বুধবার বলেন, তাঁদের মিছিল থেকে বারবার পুলিশকে বলা হয়েছিল তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে আউটার রিং রোডে যেতে চান। কিন্তু পুলিশ তাঁদের যেতে বাধা দিয়েছিল। তাই তাঁরা ব্যারিকেড ভেঙেছিলেন।

সতনাম সিং পান্নু কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির সদস্য। তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ওই সংগঠন গত দু’মাস ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান করছে। ওই সংগঠনের সদস্যরাই দিল্লির ‘মুকারবা চৌক’ অঞ্চলে প্রথমে ব্যারিকেড ভাঙে।

সতনাম সিং পান্নু বলেন, মিছিলের রুট যে বদলানো হয়েছে, তা আগে জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “আমরা দিল্লির কাছে পৌঁছে ঘোষণা করেছিলাম, আউটার রিং রোডে যেতে চাই। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চাও তাই বলেছিল। পরে তারা বলে, ওই পথে যাবে না। পুলিশ আমাদের থামাতে চেষ্টা করলে আমরা ব্যারিকেড ভেঙে দিই।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More