টিকা উৎসবের মধ্যে ভ্যাকসিনের আকাল, বৈপরীত্যের ছবি দেশজুড়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভে ব্যতিব্যস্ত একাধিক রাজ্য। ইতিমধ্যে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা পজিটিভ ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯০ হাজার ৫৮৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮৩৯ জনের। একদিকে ঊর্ধগামী সংকমণের পারদ, অন্যদিকে ভ্যাকসিনের আকাল। আক্রান্তদের পরিষেবা দিতে কেন্দ্রের মুখ চেয়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়ের মতো একাধিক রাজ্য।

এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে চারদিনব্যাপী ‘টিকা উৎসব’ কর্মসূচির ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যোগ দেন। আজ, রবিবার থেকে এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় আপৎকালীন সংকট কাটছে না। চারিদিকে টিকাদানের উৎসব। অথচ রাজ্যগুলির ভাঁড়ার টিকাশূন্য!

যেমন, পাঞ্জাব। মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দ্র সিং ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, তাঁদের হাত মোটে দিনপাঁচেক চালানোর মতো ভ্যাকসিন অবশিষ্ট আছে। এরপর কী হবে, কেউ জানে না।

রাজস্থানের ছবি আরও ভয়াবহ। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীও টিকার স্বল্পতার সমস্যা তুলে ধরেছে। পাঞ্জাবে পাঁচদিনের ভ্যাকসিন মজুত থাকলেও রাজস্থানে তার মেয়াদ মোটে দুইদিনের।

তুলনায় কিছুটা স্বস্তিতে দিল্লি। কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, কোনওমতে সাত থেকে দশদিনের ডোজ তাঁরা চালিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু এটা তো কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। তাই সমস্যার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন আম আদমি পার্টির নেতা রাঘব চাঢা। সকলের হয়ে সওয়াল করে তিনি বলেন, ‘একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনের আকাল দেখা দিয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতে আগামী কিছুদিনের মধ্যে সংকট দেখা দেবে৷ দয়া করে ব্যবস্থা নিন।’

যদিও আজ সকালে মোদী দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি সকলকে টিকাদান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘একজনের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এলে চারপাশের লোকেরা মিলে ‘মাইক্রো কন্টেইনমেন্ট জোন’ তৈরি করুন। পরিবার কিংবা পাড়ার লোকদের এজন্য এগিয়ে আসতে হবে।’

ভ্যাকসিনের আকাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনও বিবৃতি না এলেও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘যাঁদের দ্রুত প্রয়োজন, তাঁদের সবার আগে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। যাতে কোনও ভ্যাকসিন নষ্ট না হয়।’

এতকিছুর মধ্যে হু হু করে চড়ছে কোভিড আক্রান্তের গ্রাফ৷ মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় সহ একাধিক রাজ্য সংক্রমণ ঠেকাতে নাইট কার্ফু ও সপ্তাহান্তিক লকডাউনের ঘোষণা করেছে। তবু করোনার আঁচ কিছুতেই এড়ানো যাচ্ছে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More