অমিত মিত্র, ব্রাত্য ভার্চুয়ালি শপথ নেবেন, ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে এই প্রথম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সন্ধ্যায় দ্য ওয়ালই সবার প্রথমে জানিয়েছিল যে সোমবার মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণে একেবারে অভিনব কিছু দেখা যেতে পারে। রাজভবনে উপস্থিত না থেকে ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় শপথ নিতে পারেন অমিত মিত্র। শেষ মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন না হলে সেটাই হতে চলেছে সোমবার। ভার্চুয়ালি শপথ নিতে পারেন অমিত মিত্র এবং কোভিডে আক্রান্ত ব্রাত্য বসু।
ভারতের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এর আগে এমনটা কোনওদিনও হয়নি। কেন্দ্রে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয় রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাতেন রাষ্ট্রপতিরা। দরবার আয়তনে ছোট বলে পরে রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হত। আবার রাজ্যে রাজ্যে রাজভবনেই হত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। পরবর্তী কালে সেই ধারার কিছুটা বদল হয়। যেহেতু রাজভবনের ভিতরের হলে অনেক মানুষের স্থান সংকুলান হয় না, তাই অনেক সময়েই বাইরে কোনও ময়দানে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান করা হয়। যেমন এর আগে পাটনার গান্ধী ময়দানে শপথ পাঠ করেছিলেন নীতীশ কুমার। গত ভোটের পর রেড রো়ডে মঞ্চ বেঁধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছিল। তবে স্বাধীনতার পর থেকে এ যাবৎ শপথ পাঠে মন্ত্রীরা সশীরে উপস্থিত ছিলেন। এই প্রথম অতি মহামারীর পরিস্থিতিতে তার ব্যতিক্রম ঘটতে চলেছে। সেদিক থেকে বলতে গেলে ইতিহাস গড়তে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার এই দুই হবু মন্ত্রী।
দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে গতকালই একটা প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তা হল, এভাবে ভার্চুয়ালি শপথ নেওয়া কি সংবিধান সম্মত। সে প্রশ্নের জবাবে প্রবীণ এক রাজনীতিক মজা করে প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের একটি কথার দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন। প্রণববাবু কেন্দ্রে মন্ত্রী থাকাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। পরে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার পরেও সঙ্গে সেই মোবাইল ও সেই এক নম্বর রাখতেন এবং রাতবিরেতে সেই ফোন নিজেই তুলতেন। তখন একবার ঘরোয়া আড্ডায় প্রণববাবুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আচ্ছা রাষ্ট্রপতি কি এভাবে মোবাইল রাখতে পারেন? সরাসরি যে কেউ তাঁর সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন? প্রণববাবু জবাবে বলেছিলেন, শোনো বাপু সংবিধান প্রণেতারা যখন সংবিধান লিখেছিলেন, তখন তো মোবাইল আবিষ্কার হয়নি। সুতরাং তাঁরা লিখে যাননি যে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। তাই বাধা কোথায়!
আসলে ওই প্রবীণ রাজনীতিক বোঝাতে চেয়েছিলেন, সংবিধানও থেমে থাকে না। প্রয়োজনে তার যেমন সংশোধন হয়, তেমনই সাংবিধানিক প্রথার পরিবর্তনও সময়ের দাবি মেনে হতে পারে। সংবিধানে কোথাও লেখা নেই, ভার্চুয়ালি শপথ নেওয়া যাবে না। কারণ, সংবিধান প্রণেতারা তা যখন লিখেছিলেন তখন এ ধরনের অতি মহামারী পরিস্থিতির কথা হয়তো কল্পনা করতে পারেননি। তখন তাঁরা জানতেনও না যে বিজ্ঞান এভাবে এগিয়ে যাবে। আসল বিষয় হল, রাজ্যপালের কাছ থেকে শপথ বাক্য পাঠ করা। ভার্চুয়ালি হলেও অমিত মিত্র ও ব্রাত্য দুজনেই শপথ বাক্য পাঠ করবেন। তাতে কোনও ত্রুটি হবে না।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More