অমর্ত্য সেন আইনি চিঠি পাঠালেন বিশ্বভারতীকে, জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে পাল্টা জবাব উপাচার্যেরও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগেই নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনের বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতনে বেআইনিভাবে জমি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলে দেন, এসব বিজেপির চক্রান্ত। পরবর্তীকালে এই ঘটনা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তবে দু’দিন আগেই সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছেন, বেআইনি ভাবে জমি দখল করে রয়েছেন অমর্ত্য সেন। এই অভিযোগের বিরুদ্ধেই এবার আইনি পদক্ষেপ নিলেন অমর্ত্য সেন।

এদিম বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে ই-মেল করেন নোবেলজয়ী। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা মিথ্যে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হোক। তাতে অবশ্য বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেননি, বরং উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, চিঠিটি আদৌ অমর্ত্য সেনেরই লেখা কিনা। কারণ চিঠির নীচে ওঁর সই নেই।

তবে এ চিঠি যদি ওঁর লেখা হয়, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ বাবু। কারণ চিঠিতে যে শব্দচয়ন করা হয়েছে তা অমর্ত্যবাবুর কাছে কাঙ্ক্ষিত নয় বলেই মনে করেন তিনি। অমর্ত্যবাবুকে বিশ্ববিখ্যাত অর্থনীতিবিদ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এত বড় মাপের মানুষ এই শব্দ ব্যবহার করলে কাকে দোষ দেব।”

তবে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে আইনি নোটিস পাঠানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কর্তৃপক্ষের তরফেও কড়া চিঠি লিখে ‘তর্কের নামে সার্কাস’ বন্ধের কথা তুলে ই-মেলে জবাব দেওয়া হল। তাতে ছত্রে ছত্রে বোঝানো হল বিশ্বভারতী রয়েছে আগের অবস্থানেই। মঙ্গলবারের এই ঘটনা চলতি জমি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

জানা গেছে, অমর্ত্য সেন উপাচার্যকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, “৮০ বছরের পুরনো দলিল অপব্যবহার করার অর্থ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হেনস্থা করা বা তার চেয়েও খারাপ কিছু। আমার প্রতীচী বাড়ি সংলগ্ন অতিরিক্ত জমি আমার বাবা কিনেছিলেন, যা বিশ্বভারতীর কাছ থেকেও কেনা নয়।”  ‘স্যান্ডার্সন অ্যান্ড মর্গ্যান’-এর আইনজীবী বিষয়টি সবিস্তারে তুলে ধরেন সেই ই-মেলে।

আজ, মঙ্গলবার বিশ্বভারতীর উপাচার্য অমর্ত্য সেনকে জবাবি ই-মেলে লেখেন, “বিশ্বভারতীর ন্যায্য জমি পুনরুদ্ধার করছে। বিশ্বভারতীর ১১৩৮ একর জমির মধ্যে ৭৭ একর ইতিমধ্যেই বেআইনিভাবে দখল হয়ে গেছে।” উপাচার্য আরও লিখেছেন, “অধ্যাপক সেন নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে কোনোভাবেই অপদস্থ করতে চায় না বা তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার খর্ব করতে চায় না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল বিশ্বভারতীর ন্যায্য জমি পুনরুদ্ধার করা, যাতে নিশ্চয়ই অধ্যাপক সেনেরও সমর্থন আমরা পাব।”

বিদ্যুৎবাবুর দাবি, “জমি দখলের ব্যাপারটি আমরা জনসমক্ষে আনিনি। নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছি। বিশ্বভারতীর মোট যত জমি রয়েছে, তার অনেকটা অংশই বহু দিন ধরে দখল হয়ে গেছে বহু বড় মাপের মানুষের দ্বারা। এখন এই নিয়ে কেন্দ্রের চিঠি এসেছে আমার কাছে, সে জন্যই আমি পদক্ষেপ করছি। ফলে এই জমি বিতর্ক একা অমর্ত্য সেনকে নিয়ে নয়। অনেকের মতোই ওঁরও জমি আছে বিশ্বভারতীর আওতায়। উনি যদিও পরিযায়ী পাখিদের মতো মাঝেমাঝে আসেন বিশ্বভারতীতে, তবু ওঁকে নিয়ে আমরা গর্বিত। ওঁকে হেনস্থা করার কোনও উদ্দেশ্য নেই আমাদের। আমি জানি না উনি কেন এই ধরনের পদক্ষেপ করছেন।”

চিঠির শেষে প্রবীণ অর্থনীতিবিদ আরও লিখছেন, “নতুন নতুন মিথ্যা সাজিয়ে নিজেদের অপরাধবোধ আর না-বাড়িয়ে, বিশ্বভারতীর উচিত আমার আইনজীবী যেমনটি বলেছেন, সেই মতো মিথ্যা অভিযোগগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।” উপাচার্য তার জবাবে লিখলেন, ‘‘এই বাদানুবাদের পূর্ণচ্ছেদ ঘটিয়ে বিষয়টিকে তর্কাতীত ভাবে প্রতিষ্ঠা করুন, যাতে তর্কের নাম এই সার্কাসের অবসান হয়।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More