পাঞ্জাবি বান্ধবীকে বিয়ের কথা বাবা-মাকে জানালেন তরুণ, বাস্তবের ‘টু স্টেটস’ সোশ্যাল মিডিয়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃশ মালহোত্রা। উদ্যমী তরুণ। জন্মসূত্রে পাঞ্জাবী। ধনী পরিবারের ছেলে। দিল্লি আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে আইআইএম আহমেদাবাদে পড়তে যান।

সেখানে গিয়ে কৃশের আলাপ হয় অনন্যা স্বামীনাথনের সঙ্গে। তামিল হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে বেড়ে ওঠা অনন্যা যেমন অন্তর্মুখী স্বাভাবের, ঠিক ততটাই গোঁড়া তার বাবা-মা।

স্বভাবে, চলনে, বলনে পুরোপুরি আলাদা ঘরানার দু’টি পরিবারকে মিলিয়ে দিয়েছিলেন চেতন ভগত। তাঁর ‘টু স্টেটস’ উপন্যাসে। পরে এই নিয়ে ছায়াছবিও তৈরি হয়। যেখানে রোম্যান্টিক লাভ স্টোরির বাইরেও একটা বড় দুনিয়া ফুটে উঠেছিল। ভারতবর্ষের বহুধা সংস্কৃতি আর পারিবারিক ঐতিহ্যে আলো ফেলেছিলেন পরিচালক অভিষেক বর্মন।

সবকিছু ছেড়ে হঠাৎ করে ‘টু স্টেটস’-এর কথা কেন?

আসলে এর আড়ালে রয়েছে একটি টুইটার থ্রেড। যা ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিবেক রাজু নামে অন্ধ্রপ্রদেশের এক তরুণ তাঁর পাঞ্জাবি বান্ধবীকে বিয়ে করার কথা বাবা-মাকে বলেন। তারপর তাঁদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কেমন হয়েছিল এবং দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেটা কীভাবে বদলে যায়—তার খতিয়ান নিজের টুইটে ধরে রেখেছেন বিবেক। অল্প শব্দে কিন্তু মজা আর তীক্ষ্ণতায় রংদার পোস্টগুলি নেটিজেনদের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। গোটা ঘটনার সঙ্গে ‘টু স্টেটস’-এর মিল পেয়ে হতবাক অনেকেই!

প্রথম টুইট থেকেই মজার শুরু। বিবেক লেখেন, ‘গতরাতে বান্ধবীর কথা বাবা-মা-কে জানিয়েছি। আমরা অন্ধ্রের বাসিন্দা। আমার বান্ধবী পাঞ্জাবি। ঘরে আজব কাণ্ড শুরু হয়ে গিয়েছে। মা ঠিক আছেন। কিন্তু বাবা পুরো চুপ। এমন অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই হয়!’

পরের টুইটে বান্ধবীর পরিবারের অন্দরমহলের ছবি তুলে ধরেন তিনি। জানান, ‘অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন, ওঁর বাবা-মা কী বলছেন। জানাতে চাই, তাঁরা পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন। কোনও ঝামেলা হয়নি। সন্দেহ হচ্ছে, আমার হবু শ্বশুর-শাশুড়ি আদৌ ভারতীয় তো!’

কিন্তু টুইটারে সিংহভাগেরই কৌতূহল ছিল বিবেকের বাবাকে নিয়ে। তাঁদের উত্তেজনা মেটাতে বিবেকের তৃতীয় টুইট, ‘বাবা আপাতত আমায় পুরোপুরি এড়িয়ে চলেছেন। ফোনে মাথা গুঁজে বসে রয়েছেন। যাতে কথা না বলতে হয়।’

যদিও পরদিন সকালেই স্বমহিমায় ফেরেন তিনি। স্ত্রীকে জানান, বিবেক যেন তার বান্ধবীকে ফ্লাইটে আনার ব্যবস্থা করেন। হবু পুত্রবধূকে মুখোমুখি দেখতে চান তিনি।’

কিন্তু পরক্ষণেই হুঁশ ফেরে। এখন তো করোনার বাড়বাড়ন্ত। এই অবস্থায় যাতায়াত করা মোটেও ঠিক নয়। বন্ধবীকে পাঞ্জাব থেকে আনার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শুধু অফিসে বেরোনোর আগে তিনি বলে যান, ‘সবই ছেলের ইচ্ছে…’ বিড়বিড় শব্দগুলো শুনে তক্ষুনি টুইটারে লিখে ফেলেন বিবেক।

এরপর দুপুরভর চলতে থাকে টুইটের স্রোত। যেমন, মজার ছলে বিবেক একবার লেখেন, ‘আহা! কী ভালো হত, যদি আমি আর বাবা মিলে গোটা ঝামেলা ড্রিঙ্কের বোতল হাতে মিটিয়ে ফেলতে পারতাম!’ ভরদুপুরে বিবেকের মা হবু বউমার ছবি তাঁর স্বামীকে পাঠান। থ্রেডে সেটাও তুলে রাখেন তিনি। পাশাপাশি যোগ করেন, ‘গোটা ইস্যুতে মায়ের অবস্থানটা খুব পরিষ্কার। মা এখন থেকেই বউমাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান কষে রাখছেন। কীভাবে তাঁরা আদতে সময় কাটাবেন, সেটা আমি এখনই বলে দিতে পারি…. বস্তাপচা সিরিয়াল দেখে।’

উলটো দিকে বাবা অফিস থেকে ফিরে এলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। আইপিএল নিয়ে তর্ক জুড়লেও ভদ্রলোক নিরুত্তর থাকেন।

নেটিজেনরাও পিছিয়ে ছিলেন না। মধ্যে মধ্যে সরস মন্তব্য জুড়ে দেন তাঁরাও। যেমন একজন লেখেন, ‘অন্ধ্র=পাঞ্জাব। কারণ: ১. দু’টোই রাজ্যই ধান চাষে সেরা। ২. দু’রাজ্যের মানুষই বিদেশ যেতে চায়। ৩. দুটো রাজ্যের মানুষ সমান সুন্দর। ৪. দুটো রাজ্যেই খাবারের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে। ৫. আমিষ খাবারের রেসিপি সুস্বাদু। ৬. গানবাজনার ঐতিহ্য সমান জনপ্রিয়। ৭. দুই রাজ্যই মোটের উপর সমান সুন্দর!

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More