ফের অপহরণ, ধর্মান্তর পাকিস্তানে, লারকানার আরতী হলেন আয়েষা, স্বেচ্ছায় না চাপে? কমিটি গঠনের দাবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে হিন্দু মেয়েদের অপহরণ করে ধর্ম বদলাতে বাধ্য করার ঘটনায় বিরাম নেই। এমন অভিযোগ নিয়মিত উঠছে ইমরান খানের দেশের বিরুদ্ধে। দাবি উঠেছে, একটি কমিটি তৈরি করা হোক যারা খতিয়ে দেখবে নিজ ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ কি স্বেচ্ছায় হচ্ছে না কি তার পিছনে আছে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীদের চাপ? কিন্তু এই দাবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই আরেকটি হিন্দু মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ম বদলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেল। লারকানার মেয়েটির নাম আরতী দেবী।
পাকিস্তানের বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) -এর ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সদস্য খেল দাস কোহিস্তানি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, পাকিস্তানে হিন্দুরা একের পর এক নিজ সম্প্রদায়ের মেয়েদের ছিনতাই, বলপূর্বক ধর্মান্তরে বিরক্ত। আরতি দেবীকে ফাওয়াদ নামে এক ব্যক্তি অপহরণ করে জোর করে মুসলিম বানিয়ে তার নামই বদলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আরতি এখন হয়েছে আয়েশা। কোহিস্তানি বলেছেন, সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হল, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে থাকে, অসহায় মেয়েদের আদালতে হাজির করা বাদে আর কিছুই করে না। এমনকী আরতি দেবীর পরিবারকেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
২০১৯ সালে বলপূর্বক ধর্মবদল থেকে হিন্দু মেয়েদের বাঁচাতে একটি পার্লামেন্টারি কমিটি তৈরি হয়। নেতৃত্বে ছিলেন সেনেটর আনোয়ারউল হক কাকার। কিন্তু সেই কমিটি সংখ্যালঘু মেয়েদের রক্ষায় কোনও আইন বানাতে পারেনি। কোহিস্তানি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সর্বত্র এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গেই বৈঠক করছে কমিটি। সংখ্যালঘুদের সুরাহায় প্রয়োজনীয় আইন বানাতে একটি বিল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
আরতি দেবীর অপহরণ, জোর করে ধর্মবদলের কঠোর নিন্দা করে অল পাকিস্তান হিন্দু পঞ্চায়েত সংগঠন নিজেদের ফেসবুক পেজে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, নামী হিন্দু নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কমিটিই স্থির করবে, সংখ্যালঘু মেয়েরা কি নিজে থেকেই ধর্ম বদলাচ্ছে না চাপে পড়ে তা করতে বাধ্য হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More