ব্লাড প্রেশারের রোগীদের জন্যও উপকারী এসেন্সিয়াল অয়েল, জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকালকার দিনে, দূষণ এবং ব্যস্ততার জীবনে এসেন্সিয়াল অয়েল হল ইন থিং। সুগন্ধিযুক্ত তেলের প্রশংসা তো প্রায় সকলেই করেন। প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যায় এসেন্সিয়াল অয়েল ব্যবহার করলে যেমন উপকার পাওয়া যায়, তেমনই স্ট্রেস, টেনশন কমাতেও সাহায্য করে এই অয়েল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজকার জীবনধারা, ভুল ডায়েট, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত কাজের চাপ, স্ট্রেসের কারণে হাইপারটেনশন হয়। ব্লাড প্রেশারের অন্যতম কারণ এই হাইপারটেনশন।‌ তাঁরা জানিয়েছেন, সুগন্ধিযুক্ত তেল টেনশন কমাতে কিছুটা সাহায্য করে। তার সঙ্গে নিয়মিত এক্সারসাইজ, মেডিকেশন, ডায়েট, নুন ছাড়া খাবার-এই ধরনের অভ্যাসগুলো মেনে চললেই ব্লাড প্রেশার একেবারে নর্মাল থাকবে।

কীভাবে কাজ করে এসেন্সিয়াল অয়েল


ব্লাড প্রেসারের রোগীদের ক্ষেত্রে স্ট্রেস এবং টেনশন হল অন্যতম কারণ। স্ট্রেস পড়লে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ব্লাড প্রেসারের উপরে পড়বেই। এই স্ট্রেসের কারণে অনেকেই অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করেন। তার প্রভাবেই ব্লাড প্রেসার বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে এসেন্সিয়াল অয়েলের সুগন্ধে শরীরের ভাল হরমোন নিঃসরণ হয়, যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমও অ্যাক্টিভ করে তোলে। যা শরীর, মন শান্ত রাখতে সাহায্য করে।‌ হাইপারটেনশন কমে যায়। একইসঙ্গে ব্লাড প্রেসারও অনেকটাই কমে যায়।

কীভাবে ব্যবহার করা উচিত


ব্লাড প্রেসারের রোগীদের নিয়মিত রুটিন মাফিক জীবন যাপন করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ডাক্তারদের পরামর্শ যেমন মেনে চলবেন, তেমনই পাশাপাশি এসেন্সিয়াল অয়েলের সাহায্যও নিতে পারেন। বিশেষ করে আদা, ব্ল্যাক পেপার, হলুদের এসেন্সিয়াল অয়েল ভীষণ উপকারী এক্ষেত্রে। তাছাড়াও প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের জন্য নেরোলি, ইয়াং ইয়াং, ক্যামোমাইল, ল্যাভেন্ডার, রোজ, বেগারমট এসেন্সিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে বলছেন ডাক্তাররা।

কীভাবে ব্যবহার করবেন


ইনহেলারের মধ্যে এসেন্সিয়াল অয়েল দিয়ে তাঁর গন্ধ বারবার নিতে পারেন। তাছাড়াও অ্যারোমা স্টিক, অ্যারোমাথেরাপি গয়না (ব্রেসলেট, হার) এগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। ইনহেলার না থাকলে, তুলোর বলে কয়েক ফোঁটা নিয়ে সেটার গন্ধও নিতে পারেন।

অন্যদিকে একটি ডিফিউজারে কয়েক ফোঁটা এসেন্সিয়াল অয়েল এবং অল্প জল মিশিয়ে ঘরেও স্প্রে করতে পারেন। আবার বডি লোশনের সঙ্গে এসেন্সিয়াল অয়েল মিশিয়ে হাত, পা, পিঠে ম্যাসাজও করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এসেন্সিয়াল অয়েল কখনই সরাসরি গায়ে ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রভাব

অতিরিক্ত এসেন্সিয়াল অয়েল ব্যবহার করলে কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ে। যেমন শ্বাসকষ্ট হতে পারে, মাথা যন্ত্রণা করতে পারে, বমি বমি ভাব বাড়তে পারে। তবে এই প্রভাব দীর্ঘক্ষণ থাকে না। ব্যবহার করা ছেড়ে দিলেই আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

মনে রাখবেন

১. বিশেষজ্ঞদের মতে কালো, গাঢ় নীল রঙের কাঁচের বোতলের এসেন্সিয়াল অয়েল কেনা উচিত সবসময়।

২. ডাক্তারের পরামর্শ মেনে প্রয়োজন বুঝে তবেই ব্যবহার করবেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More