মোদীকে শপথে আমন্ত্রণ কেজরিওয়ালের, বাদ মমতা-সহ বাকিরা

একটা সময়ে ভাবা হয়েছিল এই শপথগ্রহণে বিজেপি বিরোধী দলগুলির প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রীদের সমাবেশ হবে। বিরোধী ঐক্য দেখা যাবে রামলীলা ময়দানে। কিন্তু সে সম্ভাবনা পড়ে উড়িয়ে দিয়েছে আপ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আম আদমি পার্টির বিপুল জয়ের পরে রাজকীয় শপথগ্রহণ হতে চলেছে রবিবার। সেই শপথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে তৃতীয়বার শপথ নিতে চলা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে ৭০-এ ৬২ পাওয়া আপের শপথে আদৌ প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন কিনা তা জানা যায়নি।

প্রথমে ঠিক ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেনটাইনস ডে-র দিনে শপথ নেবেন কেজরিওয়াল। পরে দিন বদলে ১৬ ফেব্রুয়ারি হয়। একটা সময়ে ভাবা হয়েছিল এই শপথগ্রহণে বিজেপি বিরোধী দলগুলির প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রীদের সমাবেশ হবে। বিরোধী ঐক্য দেখা যাবে রামলীলা ময়দানে। কিন্তু সে সম্ভাবনা পড়ে উড়িয়ে দিয়েছে আপ। দলের দিল্লি শাখার কনভেনর গোপাল রাই এমনটাই জানান সংবাদমাধ্যমকে। বলা হয় দিল্লির জনতাকে সঙ্গে নিয়েই শফত নেবেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে তারই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানাল আপ।

মঙ্গলবার বিপুল জয় পাওয়ার পরেই কেজরিওয়াল বলেন, দিল্লি তাঁর দিল জিতে নিয়েছে। তখনই দিল্লির প্রতি ভালবাসা জানিয়ে বলেছেন ভালবাসার দিনে শপথ নেবেন। সেই দিন বদলালেও শপথে দিল্লির জনতার প্রতি আহ্বান বদলায়নি। শপথগ্রহণে সব দিল্লিবাসীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে ডাক পাননি কেজরিওয়ালের বন্ধু দলের নেতারাও। ডাক পাননি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এটা ঠিকই যে দিল্লিতে বিধানসভা ভোটের গণনার আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন আম আদমি পার্টির সর্বাধিনায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পরে ভোটের ফল প্রকাশের পর কেজরিওয়ালকে ফোন করে শুভেচ্ছাও জানান দিদি। এর জেরে মনে করা হয়েছিল শপথগ্রহণ মমতা যোগ দেবেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে বাকিদের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানায়নি আপ।

কিন্তু কেন এমন করা হল? আপের অনেকেই মনে করেন, আপের জয়কে এই সব আঞ্চলিক নেতারা নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে মানুষের রায় বলে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাঁরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও সেই বার্তা দিতে পারেন। কিন্তু অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অবস্থান হল—তাঁর সুশাসনের কারণেই উপুরহস্ত হয়ে ভোট দিয়েছেন মানুষ। তিনি সংখ্যাগুরু ভাবাবেগকেও কোনও ভাবে আঘাত করতে চান না। সেই কারণেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কেবল দিল্লির জনতাকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কিন্তু সবাইকে বাদ দিলেও নরেন্দ্র মোদী কেন? আপ নেতাদের বক্তব্য, মোদী এখানে বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে নন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রিত। দিল্লিতে জয় মিলেছে। এবার দরকার উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীকে যে আপ সরকারের প্রয়োজন সেটাই এই আমন্ত্রণে স্পষ্ট।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More